Monday , 30 November 2020
আপডেট
Home » লাইফ স্টাইল » নিরাপদ দুধ!
নিরাপদ দুধ!

নিরাপদ দুধ!

লাইফস্টাইল ডেস্ক: দুধ একটি আদর্শ পানীয়। প্রোটিন, ভিটামিন সমৃদ্ধ দুধ ছাড়া বেশিরভাগ মানুষের দিনের খাবার পূর্ণ হয় না। দুধ শুধু বাচ্চাদের জন্যই বেশি প্রয়োজনীয় তা নয়, এমনকি বড়রাও প্রয়োজনীয়তা উপলদ্ধি করে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধ পান করতে ভালোবাসেন। তবে প্রশ্ন হলো খামারের টাটকা দুধ, দোকানের প্যাকেটজাত দুধ নাকি টেট্রা প্যাকের দুধ, কোনটা শরীরের জন্য বেশি নিরাপদ? অনেকটা সেই প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজবো আমরা এ লেখায়।
অপাস্তুরিত দুধ: খামার থেকে নিয়ে আসা দুধ অপাস্তুরিত থাকে। এই দুধে কোনো রাসায়নিক থাকে না। দুধওয়ালারা এই দুধ আমাদের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেয়। এই দুধ অর্গানিক বা ইনঅর্গানিক দু’ধরনের হতে পারে। গবাদি পশুকে যে খাবার খাওয়ানো হয়, তাতে যদি কোনও ধরনের রাসায়নিক যোগ না করে বরং ঘাস, লতা পাতা খাওয়ানো হয়, সে গরু থেকে পাওয়া দুধকে অর্গানিক বা জৈব দুধ বলে। প্রাকৃতিক উপায়ে লালন পালন করা ঐসব খামারে গরু বা মহিষকে দুধের জন্য হরমোন বা ওষুধের ইনজেকশন দেওয়া হয় না। অন্যদিকে বেশি দুধ পাওয়ার আশায় যেসব গরুকে ইনজেকশন দেওয়া বা ওষুধ খাওয়ানো হয়,তাদের দুধ ইনঅর্গানিক বা অজৈব।
অপাস্তরিত দুধ কেন ক্ষতিকর: গ্রামের খামার থেকে যে দুধ সংগ্রহ করা হয়, তাতে পুষ্টিগুণ বেশি থাকে ঠিক, তবে বেশিরভাগ খামারের পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় সেখান থেকে সংগৃহীত দুধে ক্ষতিকর উপাদান থাকতে পারে, যা শরীরে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
প্যাকেটজাত দুধ: প্যাকেটজাত দুধ পাস্তুরিত হয়ে থাকে। কারণ নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দুধ গরম করে ও পরে ঠাণ্ডা করে প্যাকেটে ভরা হয়। এ ধরনের দুধ তিন প্রকার হয়, টোনড (পানি, গুড়ো দুধ মেশানো), ডাবল টোনড(ফ্যাট কমিয়ে অন্য উপাদান বাড়ানো) ও পূর্ণ ননীযুক্ত ফুল ক্রিম মিল্ক। তিন ধরনের দুধে তাই পুষ্টিগুণ আলাদা থাকে।
টেট্রা প্যাক দুধ: অতি উচ্চ তাপমাত্রায় গরম করে দুধকে জীবাণুমুক্ত রাখতে টেট্রা প্যাকেটে ভরে বাজারে ছাড়া হয়। এসব প্যাকেটে ছয় স্তরে দুধ সংরক্ষরিত থাকে। আর তাই খামারের দুধ বা প্যাকেটজাত দুধের তুলনায় এই দুধ বেশি দিন অক্ষত থাকে। আর তাই বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে তিন উপায়ে বাজারে তরল দুধ পাওয়া যায়, তার মধ্যে টেট্রা প্যাকের দুধ বেশি নিরাপদ। খামারের দুধে যেমন বিভিন্ন জীবাণু থাকতে পারে, তেমনি প্লাস্টিকের প্যাকেটে থাকা দুধে ঐ প্যাকেট থেকে রাসায়নিক দুধে মিশে যাওয়ার আশঙ্কা করেন গবেষকরা। কেউ কেউ পাস্তুরিত দুধে কিছুটা পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার কথা বললেও যে উপায়ে টেট্রাপ্যাকে দুধ সংরক্ষণ করা হয়, তা শরীরের জন্য, বিশেষ করে উঠতি বয়সী শিশুদের জন্য নিরাপদ বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। তথ্যসূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*