Saturday , 6 March 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » ভোলায় আমনের বাম্পার ফলন
ভোলায় আমনের বাম্পার ফলন

ভোলায় আমনের বাম্পার ফলন

জে এম নাঈম হাসান, ভোলা: ভোলা জেলায় চলতি বছর আমন ধানের বাম্পার ফলনের দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে এখানে আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে বেশি হয়েছে। নির্ধারিত জমি থেকে এবছর ৪ লাখ ২০ হাজার মে. টন চাল উৎপাদনের টার্গেট নিয়েছে কৃষি বিভাগ। ভালো ফলন হওয়ায় হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে। কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ৭ উপজেলায় মোট আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৭৮ হাজার হেক্টর জমি। আর আবাদ সম্পন্ন হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে উফশী জাতের আমন আবাদ হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার হেক্টর। বাকি জমিতে স্থানীয় জাত আবাদ হয়েছে।
কৃষি কর্মকর্তারা জানান, জেলায় সাধারণত উফশীর মধ্যে বিআর-১১, ২২, ২৩,। ব্রি-ধান-৪০, ৪২, ৫১, ৫২, ৬২, ৭৩ ইত্যাদি। এছাড়া স্থানীয় জাতের মধ্যে কালি জি, কাজল সাইল, মুধুমালতী, কালাগাড়া টেবু সাইল, সাদা মোটা জাতের আবাদ বেশি করা হয়।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ৭ উপজেলায় মোট আমন ধান আবাদের মধ্যে ভোলা সদরে হয়েছে ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে, দৌলতখানে হয়েছে ১৬ হাজার হেক্টর, বোরহানউদ্দিনে ১৮ হাজার ৫০০, লালমোহনে ২৩ হাজার ৭৫০, তজুমুদ্দিনে ১১ হাজার , চরফ্যাশন ৭১ হাজার ও মনপুরা ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, সেপ্টেম্বর থেকে চারা রোপন কার্যক্রম শুরু করা হয়। নভেম্বরের শেষ দিকে অথবা ডিসেম্বরের প্রথম দিকে কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবে। আর কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ সেবা দেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বোরহানউদ্দিন উপজেলার হাসান নগর ইউনিয়নের কৃষক মনতাজ মিয়া, মজিবল হাঃ ও আবুল কালাম বলেন, তারা এবার ১০ একর জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। এবছর রোগ-বালাই ও পোকা আক্রমণ না থাকায় তাদের ফলন ভালোর দিকে। বর্তমানে ফসলে ধান এসেছে। তাই শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত তারা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক প্রসান্ত কুমার সাহা বলেন, এবছর এখন পর্যন্ত প্রাকৃতিক দুর্যোগে কোন জমি আক্রান্ত হয়নি। ধানের মাঠ ভালো অবস্থানে রয়েছে। রোগ-বালাই ও পোকার উপদ্রব গত বারের তুলনায় নেই বল্লেই চলে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলায় আমনের বাম্পার ফলনের হবে বলে জানান তিনি।
জেলার সবচে বেশি আমনের আবাদ হয়েছে চরফ্যাশন উপজেলায়। এখানে ৭১ হাজারেরও বেশি হেক্টর জমিতে আমান চাষ হয়েছে। এখানকার কৃষক সহিদ মিয়া, আব্দুল কুদ্দুস বেপারি ও মালেক মিয়া জানান, তারা ২৫ বছর ধরে আমন আবাদ করছেন। শেষ পর্যায়ের রোগ-বালাই থেকে রক্ষা পেতে মাঠ কর্মীরা তদারকি করছেন বলে জানান তারা।
উপ-পরিচালক আরো বলেন, ধানের এই পর্যায়ে বøাস্ট রোগ, পাতা মোড়ানো পোকা বাদামী ঘাস ফরিং, ধানের শীষের পাকা। তাই এসব হলে করণীয় সম্পর্কে কৃষকদের আগাম ধারনা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একইসাথে জেলায় উন্নত জাতের আমন বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রায় আড়াইশ আমন ক্ষেতের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*