Thursday , 26 November 2020
আপডেট
Home » আন্তর্জাতিক » বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রস্তাব সৌদি সরকারের
বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রস্তাব সৌদি সরকারের

বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির প্রস্তাব সৌদি সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ধরপাকড়ে আটক হওয়া ব্যক্তিদের শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির কর্মকর্তারা। কথিত দুর্নীতির অভিযোগে আটক রাজপরিবারের সদস্য ও ব্যবসায়ীদের তারা বলেছেন, সরকারকে নগদ অর্থ দিয়ে তারা মুক্তি পেতে পারেন। আটক ব্যক্তিরা সরকারের এ প্রস্তাবে রাজি হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়বে কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলার। এরইমধ্যে কেউ কেউ এ প্রক্রিয়ায় মুক্তিও পেয়েছেন। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান।
ইতোমধ্যে দেশজুড়ে সহস্রাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার হুমকিও আলোচনায় এসেছে। সৌদি অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, তিনি অন্তত ১০০ বিলিয়ন ডলার অঙ্কের অর্থ নিয়ে তদন্ত করছেন।
সৌদি রাজপরিবার থেকে ২০১ জনকে আটকের কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে রাজদরবারের অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের প্রকৃত সংখ্যা এরইমধ্যে ৫০০ ছাড়িয়েছে। এদের মধ্যে প্রিন্স, মন্ত্রী, ঊর্ধ্বতন সেনা কর্মকর্তা এবং দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের তালিকায় রাজপরিবারের সদস্য এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা ধনী আল ওয়ালিদ বিন তালাল এবং তার কন্যা প্রিন্সেস রিম বিন তালালের নামও রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের অনেককেই রাখা হয়েছে রিয়াদের রিটজ কার্লটন হোটেলে। ব্যাপক মারধর ও নির্যাতনের ফলে অন্তত ১৭ জনকে হাসপাতালে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বেশির ভাগকে এখন অর্থের বিনিময়ে মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন কর্মকর্তারা। ধরপাকড়ের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের ৭০ ভাগের কাছেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিরা সরকারের প্রস্তাবে রাজি হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা পড়বে কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলার।
এরইমধ্যে যুবরাজের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ বিন নায়েফ, যিনি গৃহবন্দি হয়ে আছেন, তার সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে। সম্পত্তি জব্দ করা হয়েছে সুলতান বিন আব্দুল আজিজেরও। তার ছেলেদের গ্রেফতার করা হয়েছে। দুনিয়াজুড়ে তেলের দাম কমতে থাকায় সৌদি অর্থনীতি এমনিতেই চাপের মুখে রয়েছে। ২০১৬ সালে দেশটির বাজেট ঘাটতি ছিল ৭৯ বিলিয়ন ডলার।
৮২ বছরের বর্তমান রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের পুত্র যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নেতৃত্বে এ ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। তাকেই এখন সৌদি আরবের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ জানুয়ারি তার বাবা যখন সৌদি সিংহাসনে বসেন; তখন সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় মোহাম্মদ বিন সালমানের নাম ছিল তিন নম্বরে। তবে রাজকীয় ফরমান জারি করে বাকিদের হটিয়ে এখন সিংহাসনের পরবর্তী উত্তরাধিকারী এখন ৩২ বছরের মোহাম্মদ বিন সালমান।
দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে চালানো এ ধরপাকড় রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। বিশেষ করে যারা আগের রাজা আব্দুল্লাহ’র ঘনিষ্ঠ ছিলেন- তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক বেশি কাজ করছে। ২০১৫ সালে ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় মারা যান বাদশাহ আব্দুল্লাহ। এরপর সৎ ভাই সালমান বিন আব্দুল আজিজ বাদশাহ নিযুক্ত হন।
অনেকের আশঙ্কা, নিজের একচ্ছত্র আধিপত্য কায়েমের পথে যাদেরই অন্তরায় বলে মনে করছেন; তাদেরই তিনি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছেন বা সরিয়ে দিচ্ছেন। এখানে আরও স্বচ্ছতা বা স্বাধীনতার বুলি আওড়ানো অবান্তর।
ডজনখানেক প্রিন্স ও ব্যবসায়ীকে যখন আটক করা হয়; তখনও যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের পরবর্তী বাদশাহ হওয়ার পথে দুজনকে হুমকি বলে মনে করা হচ্ছিল। এদের একজন প্রিন্স মানসুর বিন মাকরিন রহস্যজনক এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। অপরজন সৌদি সরকারের মন্ত্রী এবং ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান প্রিন্স মুতাইব বিন আব্দুল্লাহকে তার দায়িত্ব থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সৌদি আরবে ন্যাশনাল গার্ড একটি শক্তিশালী বাহিনী।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে কিভাবে সরকারের কাছে নিজেদের নগদ অর্থ এবং অন্যান্য সম্পদ হস্তান্তর করে আটক ব্যক্তিরা মুক্তি পাচ্ছেন। এ ধরনের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত একজন সংবাদ মাধ্যমটিকে জানান, রিটজ হোটেলে আটক বেশির ভাগ ব্যক্তিকে একই রকমের মীমাংসায় আসতে বলা হচ্ছে। আর তা হচ্ছে, ‘নগদ টাকা দিয়ে বাড়িতে ফিরে যাও।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*