Tuesday , 27 October 2020
আপডেট
Home » শিল্প ও বাণিজ্য » শেয়ারবাজারে বড় দরপতন
শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

শেয়ারবাজারে বড় দরপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: টানা তিন কার্যদিবস উত্থানের পর মঙ্গলবার দেশের শেয়ারবাজারে বড় ধরণের দরপতন হয়েছে। এদিন উভয় শেয়ারবাজারে মূল্যসূচকের সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
গত দুই কার্যদিবসের মতো এদিন লেনদেন হওয়া বেশিরভাগ ব্যাংকের শেয়ারের দাম কমেছে। মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মাত্র ৪টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৬টির দাম। মূলত এ কারণেই শেয়ারবাজারে পতন দেখা দিয়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেয়ারের এ দরপতনে বিনিয়োগকারীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এটি সাধারণ মূল্য সংশোধন। কারণ গত কয়েক দিন ধরে ব্যাংকসহ সব খাতের প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম বেশ বেড়েছে। আর দাম বাড়লে এক সময় মূল্য সংশোধন হবে এটাই স্বাভাবিক।
তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শেয়ারবাজারে বেশ ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে বাজারে অস্বাভাবিক উত্থান বা পতন নেই। এটা ভালো লক্ষণ। তারপরও বিনিয়োগকারীদের সার্বিক তথ্য পর্যালোচনা করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।
তথ্য পর্যালোচনা দেখা যায়, মঙ্গলবার ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২৮১ পয়েন্টে। অপর দুই মূল্যসূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩৮১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই-৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৬৮ পয়েন্টে।
বাজারটিতে এদিন ১ হাজার ৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকার শেয়ার। সে হিসাবে লেনদেন কমেছে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে ১৩২টি প্রতিষ্ঠান। বিপরীতে কমেছে ১৬৪টির, আর অপরিবর্তীত রয়েছে ৩৪টির দাম।
বাংলাদেশ সিকিজউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সাবেক চেয়ারম্যান মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, এটি স্বাভাবিক দরপতন। এর মাধ্যমে কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। শেয়ারবাজারের নিয়মই টানা দাম বাড়লে, এক পর্যায়ে এসে কমবে।
একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান।
তিনি বলেন, এখন শেয়ারবাজার যে আচরণ করছে তাতে লগ্নিকারীদের ভয়ের কিছু নেই। এটি সাধারণ মূল্য সংশোধন। তবে তাদের গুজবের ভিত্তিতে দুর্বল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ঠিক না।
এদিকে মঙ্গলবার টাকার অংকে ডিএসইতে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে লংকাবাংলা ফাইন্যান্সের শেয়ার। কোম্পানিটির ৮৬ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা এবি ব্যাংকের শেয়ার হাতবদল হয়েছে ৪৯ কোটি ১০ লাখ টাকার। আর ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ঢাকা ব্যাংক।
লেনদেনে এরপর রয়েছে- শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, ফ্যাস ফাইন্যান্স, সিটি ব্যাংক, বিডি থাই, গ্রামীণ ফোন, স্কয়ার ফার্মা এবং ব্র্যাক ব্যাংক।
অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএসসিএক্স মঙ্গলবার ৭৪ পয়েন্ট কমে ১১ হাজার ৭৬০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এদিন বাজারটিতে ৬১ কোটি ৫৩ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের তুলনায় ৭ কোটি ৪৫ লাখ টাকা কম।
সিএসইতে মঙ্গলবার লেনদেন হওয়া ২৪২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে আগের দিনের তুলনায় ১০৩টির দাম বেড়েছে। অপরদিকে কমেছে ১১৫টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৪টির দাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*