Monday , 26 October 2020
আপডেট
Home » জাতীয় » সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কাম্য নয়: নাগরিক সমাজ
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কাম্য নয়: নাগরিক সমাজ
জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন

সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কাম্য নয়: নাগরিক সমাজ

নিজস্ব প্রতিবেদক: সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে না বলে মনে করছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তারা বলছেন, ‘সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কোনওভাবে কাম্য নয়, এটা দেশের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না।’ সোমবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তরা এ কথা বলেন।
এসময় রংপুরের ঠাকুরপাড়ায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও নির্যাতনের ঘটনার ওপর তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার কথা বলে সংখ্যালঘুদের বাড়িতে হামলার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে পাবনার সাথিয়া (২০১৩ ), কক্সবাজারের রামু (২০১২) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে (২০১৬) একই ধরনের গল্প তৈরির প্রবণতা দেখা গেছে। প্রতিটি ঘটনায় কিছু ব্যতিক্রমধর্মী প্রগতিশীল দল বাদে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
লিখিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়- রংপুরের ঘটনার পরে পুলিশ প্রথমে জানিয়েছিল, টিটু রায়ের ফেসবুক আইডি তার নিজের (টিটু রায়ের) নয়। অন্য কেউ এ আইডি ব্যবহার করে ঘটনাটি ঘটিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তাকে গ্রেফতার করে আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ৮ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এসময় টিটু রায় দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে আমরা জানতে পারি। এখানে নতুন একটি জজ মিয়া নাটক তৈরি হয়েছে কিনা আমরা নিশ্চিত নই। কারণ অতীতে আমরা যাদের বিরুদ্ধে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ জেনেছি, তারা নিরপরাধ হয়েও জেল খেটেছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন।
‘নিজেরা করি’ সংগঠনের সমন্বয়কারী খুশি কবির বলেন, ‘এসব ঘটনার জন্য প্রশাসনকে জবাবদিহি করতে হবে। কেউ যদি মনে করে এ ধরনের হামলা হলে আমরা পিছু হটবো তাহলে ভুল হবে। যতবারই হামলা হবে, ততবারই আমরা এগিয়ে যাবো। বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কাম্য নয়।’
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর সবগুলো হামলার ধরন একই। এটাকে একটি ট্রাডিশন বানানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু যারা ফেসবুকে এ ধরনের মিথ্যা পোস্ট দিচ্ছে, সরকার তাদের চিহ্নিত করতে পারছে না। তাদের যদি চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা যেত, তাহলে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা কমতো।’
তিনি আরও বলেন, ‘হামলার সঙ্গে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জড়িত থাকলেও লুটপাটের সময় সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে এক শ্রেণির নেতাকর্মীকে জড়িত থাকতে দেখা গেছে।’
৫৭ ধারা বাতিল করার দাবি জানিয়ে ব্লাস্টের আনারারি নির্বাহী পরিচালক ব্যারিস্টার সারা হোসাইন বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের প্রশ্রয়, সহযোগিতা এবং প্রশাসনের ইন্ধন ছাড়া সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলার ঘটনা সম্ভব না।’
তিনি আরও বলেন, ‘টিটু রায়কে গ্রেফতারের পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না, যা সংবিধান এবং সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের পরিপন্থী।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বেলা’র প্রধান নির্বাহী অ্যাডভোকেট সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান , এএলআরডি নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সহসভাপতি অ্যাডভোকেট তবারক হোসেন, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলনের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের উপদেষ্টা কাজল দেবনাথ প্রমুখ।
মিথ্যা অভিযোগে সাম্প্রদায়িক সহিসংতার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিসহ বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেছেন নাগরিক সমাজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*