Friday , 4 December 2020
আপডেট
Home » অন্যান্য » গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা
গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা

গ্রামীণফোনের প্যানেল আলোচনায় ডিজিটাল চট্টগ্রামের রূপরেখা

আজকের প্রভাত প্রতিবেদক : ডিজিটাল ডেভেলপমেন্ট রোড টু এমপাওয়ারমেন্ট শীর্ষক এক প্যানেল আলোচনায় দেশে ও বিশ্বে যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসছে তার মোকাবেলায় চট্টগ্রামের সেবা সমূহকে ডিজিটাল করণের উপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মঙ্গলবার চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু বে ভিউ হোটেলে গ্রামীণফোন এই আলোচনার আয়োজন করে।
চট্টগ্রাম বাংলাদেশের বানিজ্যিক রাজধানী। এইর অর্থনীতি দেশের ৪০ শতাংশ শিল্প উৎপাদন, ৮০ শতাংশ বৈদেশিক বানিজ্য এবং সরকারের ৫০ শতাংশ রাজস্ব যোগান দেয়। এসব সাফল্য স্বত্বেও দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সাথে সাথে চট্টগ্রামের প্রতি প্রত্যাশাও বাড়ছে, তাছাড়া এই অঞ্চলের অন্যন্য বানিজ্যিক ও সামুদ্রিক কেন্দ্রগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় থাকতে এই শহরের আরো উন্নয়ন দরকার। দেশের শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গ্রামীণফোন মনে করে যে চট্টগ্রামের উৎপাদনশীলতা, অবকাঠামো এবং লক্ষ্যমাত্রার মধ্যকার ফারাক হ্রাসে ডিজিটাল প্রযুক্তি সহায়তা করতে পারে।
অনুষ্ঠানে গ্রামীণফোনের ডেপুটি সিইও ইয়াসির আজমান এবং টেলিনর হেলথ এর সিইও সাজিদ রহমান যথাক্রমে টেলিযোগাযোগ খাতে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্য তথ্য ও সেবা নিয়ে দুটি মূল আলোচনা পত্র উপস্থাপন করেন।
বিএসআরএম লিমিটেড এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আমির আলিহোসেন, চট্টগ্রাম চেম্বার্স অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি মাহবুবুল আলম, কেডিএস স্টিল এর পরিচালক মূনির এইচ খান, এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর ইলেকট্রনিক্স এন্ড টেলিকম এঞ্জিনয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডঃ মূহাম্মাদ আহসান উল্লাহ এই প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন। দৈনিক আজাদীর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ওয়াহেদ মালেক আলোচনা অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আমির আলি হোসেন বলেন, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং উৎপাদনশীল শিল্পকে অবশ্যই ডিজিটালাইজেশন মেনে নিতে হবে, অন্যথায় আমরা এই প্রতিযোগিতামূলক দুনিয়ায় পিছিয়ে পড়বো।
মুনির এইচ খান বলেন, প্রযুক্তি আমাদের হাতে বিস্তর সমাধান তুলে দিয়েছে, যদি এগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় তাহলে ব্যবসার চেহারা বদলে যাবে।
মাহবুবুল আলম চট্টগ্রাম বন্দরের কাজের গতি বৃদ্ধিতে বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রক্রিয়ার ডিজিটালাইজেশন দাবী করেন কারণ এসব প্রক্রিয়া কাজের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে বন্দরের এবং দেশের উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে।
অধ্যাপক ডঃ মূহাম্মাদ আহসান উল্লাহ বলেন, সফল ডিজিটালাইজেশন এর জন্য তথ্যের নিরাপত্তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সেবা প্রদানকারীদের এর জন্য কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে, অন্যদিকে ব্যবহারকারীদের ও তাদের ব্যবহৃত সেবা সম্পর্কে অধিকতর সচেতন হতে হবে।
সাজিদ রহমান বলেন, ডিজিটাল সেবার সুবিধা পেতে গ্রাহকদের আচরণ গত পরিবর্তন আনতে হবে কারণ তারা তাদের সমস্যার জন্য ভার্চুয়াল সমাধান মেনে নিচ্ছেন।
ইয়াসির আজমান বলেন, গ্রামীণফোন ডিজিটাল পরিবর্তনকে ঘরে বাইরে বাস্তবায়ন করছে, একদিকে অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সেবা ও প্রক্রিয়া ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে করা হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকের সাথে যোগযোগ, বিক্রয় ও বিতরণ ব্যবস্থার পরিবর্তন করা হচ্ছে যাতে এসব কিছু ডিজিটালভাবে করা যায়।
গ্রামীণফোনের হেড অফ কমিউনিকেশনস নেহাল আহমেদের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয় এবং চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেনের সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ প্রস্তাবের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়।
অর্থনীতির ডিজিটালাইজেশন একই সাথে বিপুল সুযোগ এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ এর মুখোমুখি করবে সবাইকে। আলোচকরা এই বিষয়ে একমত হন যে এই পরিবর্তনের সুফল ঘরে তুলতে চট্টগ্রাম তথা সারা দেশকে ডিজিটালাইজেশনের সাথে একাত্ম হতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*