Tuesday , 27 October 2020
আপডেট
Home » খেলাধুলা » বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন মাশরাফির রংপুর
বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন মাশরাফির রংপুর

বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন মাশরাফির রংপুর

ক্রীড়া প্রতিবেদক : বিপিএলের প্রথম দুই আসরে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরসকে চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন মাশরাফি মুর্তজা। তৃতীয় আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অভিষেকও হলো তার নেতৃত্বে শিরোপা জিতে। কিন্তু গতবার ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করে মাশরাফির কুমিল্লা। এবার নতুন গন্তব্যে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক, সফল হলেন সেখানেও। ক্রিস গেইলের রেকর্ড ইনিংসে রংপুর রাইডার্স জিতলো বিপিএলের প্রথম শিরোপা, আর চতুর্থবার ট্রফি হাতে নিলেন মাশরাফি। মঙ্গলবার রাতে মিরপুরে গেইলের ব্যাটিং তাণ্ডবে রানের পাহাড়ে চাপা পড়ে ঢাকা। শিরোপা ধরে রাখার মিশনটা কঠিন হয়ে পড়ে ২০৭ রানের লক্ষ্যে ছুটতে গিয়ে। ৯ উইকেটে ১৪৯ রানে থামে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। রংপুর প্রথম বিপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পায় ৫৭ রানে জিতে। ২০৭ রানের টার্গেট, স্বাভাবিকভাবেই চাপে থাকার কথা। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দ্বিগুণ চাপে পড়ে ঢাকা। ক্রিস গেইলের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের শিকার হওয়ার পর একের পর এক উইকেট হারিয়ে শিরোপা হারানোর শঙ্কায় পড়ে সাকিব আল হাসানের দল। ২৯ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় ঢাকা। ওই ধাক্কা আর কাটাতে পারেনি তারা।প্রথম দুই ওভারে দুটি উইকেট হারায় ঢাকা। ইনিংসের তৃতীয় বলে মেহেদী মার“ফকে রানের খাতা না খুলতে দিয়ে এলবিডাব্লিউ করেন মাশরাফি মুর্তজা। সোহাগ গাজী পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে জো ডেনলিকে শূন্য রানে নাহিদুল ইসলামের ক্যাচ বানান। মাত্র ১ রানে দুই উইকেট হারানো ঢাকা ১৯ ও ২৯ রানে আরও দুজন ব্যাটসম্যানকে হারায়। মাশরাফি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে ফেরান এভিন লুইসকে (১৫), বল করছিলেন গাজী। রুবেল হোসেনের বলে কিয়েরন পোলার্ড (৫) ক্যাচ দেন গেইলকে। রপর সাকিব ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন জহুরুল ইসলামকে নিয়ে। কিন্তু ৪২ রানের জুটি গড়ে তিনিও ফেরেন। ১৬ বলে তিন চার ও ১ ছয়ে ২৬ রানে নাজমুল ইসলামের কাছে বোল্ড হন ঢাকা অধিনায়ক। পরের দুই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন (১) ও শহীদ আফ্রিদি (৮) ক্রিজ ছাড়েন। সুনীল নারিনের প্রতিরোধ ভাঙেন ইসুর“ উদানা। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারকে ১৪ রানে বোল্ড করেন এই লঙ্কান পেসার। একা লড়তে থাকা জহুরুল ইসলামকেও আউট করেন উদানা। ৩৮ বলে চারটি চার ও দুটি ছয়ে ৫০ রানে বোল্ড হন জহুরুল। গাজী, উদানা ও নাজমুল দুটি করে উইকেট নেন।এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে গেইলের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটে ২০৬ রান করে রংপুর। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২০১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তারা। অথচ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে পা মচকে যাওয়ায় গেইলের ফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু মাঠে নেমেছেন তিনি। রংপুরের জার্সিতে আরেকবার জ্বলে উঠলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এ ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৫৭ বলে চারটি চার ও ১১ ছয়ে সেঞ্চুরি করেন গেইল, অপরাজিত ছিলেন ১৪৬ রানে। ৫টি চার ও ১৮টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ৬৯ বলের ইনিংস। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে এলিমিনেটরে ১২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্যদিকে ম্যাককালাম অপরাজিত ছিলেন ৫১ রানে।
শুরুতে কিন্তু হোঁচট খেয়েছে রংপুর। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় তারা। কুমিল্লার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা জনসন চার্লস রানের পাল্লা ভারী করতে পারেননি। ৮ বলে মাত্র ৩ রান করে সাকিবকে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ওই একটা উইকেটই হারায় রংপুর।
সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন ঢাকার বোলার খালেদ আহমেদ। ২ ওভার বল করে দিয়েছেন ৩৯ রান। এছাড়া কিয়েরন পোলার্ড ও আবু হায়দার সমান দুটি করে ওভারে রান দিয়েছেন ৩৩ ও ২৬। গেইল ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি কেউই। সাকিব ৩ ওভারে ২৬ ও মোসাদ্দেক সমান বল করে ৩২ রান দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*