Monday , 30 November 2020
আপডেট
Home » গরম খবর » রোগী মারার না বাঁচানোর ডাক্তার হচ্ছে দেখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী
রোগী মারার না বাঁচানোর ডাক্তার হচ্ছে দেখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

রোগী মারার না বাঁচানোর ডাক্তার হচ্ছে দেখতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মেডিকেল কলেজগুলোতে মান সম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। সরকার দেশে অনেকগুলো মেডিকেল কলেজ করেছে এবং অনুমোদন দিচ্ছে। এসব মেডিকেল কলেজে রোগী মারার ডাক্তার হচ্ছে, না রোগী বাঁচানোর ডাক্তার হচ্ছে- এটা একটু ভালো করে দেখতে হবে, তদারকি করতে হবে। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাতটি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। এসময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালিকও উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব মো. সিরাজুল হক খান এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, মৎস্য ওপ্রাণি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এবং প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানন্ত্রী মানসম্পন্ন চিকিৎসক তৈরিতে মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেন। প্রথম ধাপে আজ সাতটি হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিককে জাপান থেকে আনা সর্বাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিককে এ রকম সর্বাধুনিক ৫০০ অ্যাম্বুলেন্স দেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ইতোমধ্যেই পাঁচটি সেনানিবাসে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দিয়েছি এবং পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেনানিবাসেও এ ধরনের কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে। তিনি বলেন, তার সরকার স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতের লক্ষ্যে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) প্রতিষ্ঠা করেছে এবং চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।
ভালো মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো অন্যদের শেয়ার করার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন সারা বাংলাদেশে আমাদের ইন্টারনেট সার্ভিস আছে। পৃথিবীটা এখন আমাদের হাতের মুঠোয়। শিক্ষার্থীদের ভালো মেডিকেল কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসগুলো দেখানোর ব্যবস্থা করা গেলে অনেকে লাভবান হবে।
বাংলাদেশে গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অভাবের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের হাতে গোনা কয়েকজন গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আছেন। অথচ বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষ পেটের পীড়ায় ভোগে। গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ও বিশেষায়িত এ বিভাগকে সমৃদ্ধ করার নির্দেশ দেন তিনি। এ ছাড়া গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠারও তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। হাওর ও দীপাঞ্চলে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স প্রদানে গুরুত্ব দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দ্বীপাঞ্চল ও হাওর অঞ্চলে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স খুবই দরকার’। এ সময় তিনি হাসপাতাল ও চিকিৎসার যন্ত্রপাতি বিশেষ করে অ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হলে তাৎক্ষণিক মেরামতে আলাদাভাবে ‘রক্ষণাবক্ষণ বাজেট’ খাত তৈরিরও নির্দেশনা দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রথম ধাপে আজ রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, বান্দরবান সদর হাসপাতাল, গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া, গাজীপুরের কালিয়াকৈর, খুলনার ফুলতলা, কুড়িগ্রামের রাজীবপুর এবং নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রতিনিধিদের হাতে অ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*