Tuesday , 27 October 2020
আপডেট
Home » গরম খবর » আমরা কর্মবিমুখ জাতি চাই না : প্রধানমন্ত্রী
আমরা কর্মবিমুখ জাতি চাই না : প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আমরা কর্মবিমুখ জাতি চাই না : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা কর্মবিমুখ জাতি চাই না। সবাই মিলে কাজ করে এ দেশকে সমৃদ্ধ করতে হবে। প্রতিবন্ধী, বয়স্ক, বিধবা ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষরা যাতে কাজ করতে পারে সে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এক সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। জাতীয় সমাজসেবা দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সমাজসেবা মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব
কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুজ্জামান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিল্লার রহমান।
অনুষ্ঠান শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সমাজকল্যাণ অধিদফতরে আয়োজিত সমাজসেবা মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি মেলার সাফল্য কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার বিধবা ও বয়স্কদের ভাতা দেয় সংসার চালানোর জন্য নয়। তারা যাতে অভুক্ত না থাকে সে জন্য এ ভাতা প্রদান করা হয়। তিনি বলেন, কেউ যেন ভাতার উপর নির্ভরশীল না হন। কম বেশি সবাই যেন কাজ করে, সবাই যেন উপার্জন করতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ কারো সংসার চালানোর দায়িত্ব সরকারের নয়। সরকার সহযোগিতা করতে পারে, প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে।
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের অধিকার সুরক্ষা ও উন্নয়নে শুধু সরকার কাজ করলেই হবে না। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে একত্রে কাজ করতে হবে। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলেই আমরা রূপকল্প ২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নে সক্ষম হব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমান যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের অসহায় ও অনগ্রসর মানুষের উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি প্রবর্তন করেছিলেন। শিশুদের সুরক্ষা ও উন্নয়নে শিশু আইন, ১৯৭৪ প্রণয়নসহ কেয়ার এন্ড প্রটেকশন সেন্টার (সরকারি শিশু পরিবার) প্রতিষ্ঠা করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার পর বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বিধবা ভাতা ও মুক্তিযোদ্ধা সম্মানী ভাতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর সকল খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করেছি। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যথা হিজড়া, বেদে ও দলিত সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আমরা প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করছি। এছাড়া ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, দ্রুত ও সহজে সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ই-পেমেন্ট চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টা শিশুদের সহায়তায় চাইল্ড হেল্প লাইন ১০৯৮ (টোল ফ্রি) সেবা চালু করা হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচি সমন্বয় ও গতিশীল করার লক্ষ্যে ‘সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্র’ প্রণয়ন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*