Tuesday , 27 October 2020
আপডেট
Home » গরম খবর » দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অসমতা প্রকট
দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অসমতা প্রকট
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত

দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অসমতা প্রকট

নিজস্ব প্রতিবেদক: অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দেশে ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে অসমতা প্রকট। এটা সিরিয়াস সমস্যা। বুধবার রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের সম্মেলনের এক সেশনে তিনি এসব কথা বলেন।
এসডিজিবিষয়ক এ সেমিনারে অর্থমন্ত্রী বলেন, পণ্যের বৈচিত্র্য আনা, জনসংখ্যার বোনাস কালকে ডেমোগ্রাফিক (ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানো এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবদ্ধির জন্য সরকার গত নয় বছর ধরে কাজ করে যাচ্ছে। অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সিপো, ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি চিমিয়াও ফান, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝ্যাং, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসজে তারনিক প্রমুখ। অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ড. শামসুল আলম।
চিমিয়াও ফান তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে গত এক দশক ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে। দারিদ্র্য বিমোচন হচ্ছে। কিন্তু একই সময়ে অসমতা বাড়ছে। আশানুরূপ কর্মসংস্থানও হচ্ছে না। বেসরকারি বিনিয়োগের চিত্র সন্তুষ্ট হওয়ার মতো নয়। বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও কর্মসংস্থানে সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে নীতিতেও সংস্কার আনা জরুরি। পরিকল্পনা সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কিনা সেটিও কঠোর নজরদারিতে আনতে হবে।
চিমিয়াও ফান বলেন, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন কিংবা জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজি বাস্তবায়নে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ের হার বাড়াতে হবে বাংলাদেশকে। পাশাপাশি সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপিকেও কার্যকর করতে হবে।
জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিয়া সেপোও তার বক্তব্যে বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে অসমতা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন জনসংখ্যার বোনাসকাল ভোগ করছে। এই সুযোগ একবারই আসে। বাংলাদেশকে এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে হবে।
এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝ্যাং বলেন, প্রবৃদ্ধি বাড়াতে চাইলে আঞ্চলিক যোগাযোগের কোনো বিকল্প নেই। আঞ্চলিক যোগাযোগ বাড়াতে এডিবি সহযোগিতা দিয়ে আসছে। ভবিষ্যতে আরও সহযোগিতা দেয়া হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। নতুন নতুন প্রযুক্তির দিকে হাঁটতে হবে।
ওয়েনচাই ঝ্যাং বলেন, ব্যক্তি খাতের বিনিয়োগের চিত্র ভালো নয়। আর বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে হলে নীতির সংস্কারের পরামর্শ দেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত রেনসজে তারনিক বলেন, বাংলাদেশের জন্য এখন জরুরি পণ্যের বৈচিত্র্য আনা। রফতানি বাজারে শুধু পোশাক খাতের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকলে হবে না। পণ্যের নতুনত্ব আনতে হবে। একই সঙ্গে সুশাসন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
ফজলে হাসান আবেদ বলেন, দেশে প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হার বেড়েছে ঠিকই, কিন্তু শিক্ষার গুণগত মান এখনও অনেক পিছিয়ে। ক্লাসরুম, শিক্ষা পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*