Monday , 30 November 2020
আপডেট
Home » তথ্য ও প্রযুক্তি » আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ওয়ালটনের কম্পিউটার তৈরির কারখানা
আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ওয়ালটনের কম্পিউটার তৈরির কারখানা

আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো ওয়ালটনের কম্পিউটার তৈরির কারখানা

সুমন চৌধুরী : বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন ডিজি-টেক ইন্ডাস্ট্রিজে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হলো কম্পিউটার তৈরির অত্যাধুনিক কারখানার। এর মধ্যে দিয়ে আত্মপ্রকাশ করল দেশের প্রথম কম্পিউটার উৎপাদন কারখানার। নবনির্মিত ওয়ালটন কম্পিউটার কারখানা উদ্বোধন করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ওয়ালটন গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এসএম নুরুল আলম রেজভী, ওয়ালটন হাইটেক ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এসএম শামসুল আলম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক এসএম আশরাফুল আলম, ওয়ালটন ডিজিটেকের চেয়ারম্যান এসএম রেজাউল আলম ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঞ্জুরুল আলম। পরে তারা মন্ত্রীদের ওয়ালটনের কারখানা ঘুরিয়ে দেখান। প্রসঙ্গত, গাজীপুরের চন্দ্রায় ৮০ বিঘা জমির ওপরে ওয়ালটনের কারখানা গড়ে উঠেছে। ল্যাপটপ ও ডেস্কটপের ডিজাইন ডেভেলপ, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব নিয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই কারখানা। ওয়ালটন কর্মকর্তারা জানান, কারখানার জন্য যে যন্ত্রপাতি আনা হয়েছে জার্মান ও জাপান প্রযুক্তির। দেশী-বিদেশী প্রকৌশলীসহ কারখানায় সব মিলিয়ে এখন প্রায় কর্মী এক হাজার।প্রাথমিকভাবে প্রতি মাসে ৬০ হাজার ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ডেস্কটপ এবং ৩০ হাজার মনিটর উৎপাদনের লক্ষ্য তাদের। শুরুতে বিনিয়োগ প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। শিগগির রপ্তানিও শুরু করবেন তারা। মার্চে নেপালের সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তিও হওয়ার কথা রয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, আগামীতে সরকার দেশে উৎপাদিত কম্পিউটার ও ল্যাপটপ সরকারি ব্যবহারের জন্য কিনবে। ওয়ালটন যেহেতু দেশি ব্র্যান্ড হিসেবে কম্পিউটার ও ল্যাপটপ উৎপাদন শুরু করেছে তাই সরকারি কম্পিউটার ক্রয়ে ওয়ালটনকে প্রধান্য দেয়া হবে। আরও বলেন, ওয়ালটন কারখানায় দুইস্তর বিশিষ্ট মাদারবোর্ড তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই ওয়ালটন মাল্টিলেয়্যার মাদারবোর্ড তৈরিসহ কম্পিউটারের সমস্ত কিছুই যেমন র‌্যাম, এএসডি ডিভাইসেস ইত্যাদি নিজেরাই তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এটা খুবই আনন্দের সংবাদ। আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন, এটা ওয়ালটনের একটি সাহসী উদ্যোগ। এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। সফটওয়্যার খাতের মতো হার্ডওয়্যার খাতে সরকার সহযোগিতা করবে। এখানে উৎপাদিত প্রযুক্তি পণ্যগুলো সরকার কিনে তাদের সহযোগিতা করবে। এছাড়া আমরা অচিরেই প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছি। ওয়ালটনে বিভিন্ন প্রোডাকশন লাইন ঘুরে দেখলাম, এ ধরণের অত্যাধুনিক প্রোডাকশন ও অ্যাসেম্বিলিং লাইন আমরা কখনো কল্পনাও করিনি। ওয়ালটন এরকম অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করেছে। এরইমধ্যে এসএমটি (সার্ফেস মাউন্টিং টেকনোলজি) সিস্টেমের মাধ্যমে পিসিবি (প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড) এর উপর অতি নিঁখুতভাবে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম পিন বসিয়ে উচ্চ গুণগতমানের পিসিবিএ বা মাদারবোর্ড তৈরি শুরু হয়েছে। গড়ে তোলা হয়েছে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের পর্যাপ্ত মজুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*