Sunday , 17 January 2021
আপডেট
Home » গরম খবর » ১০জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম জানাতে পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো: মোজাম্মেল হক
১০জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম জানাতে পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো: মোজাম্মেল হক

১০জন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম জানাতে পারলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো: মোজাম্মেল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ.ক.ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, ‘আমি চার বছর ধরে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছি। আমার দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের মাধ্যমে কোনো অ-মুক্তিযুদ্ধা ও রাজাকারকে মুক্তিযুদ্ধা বানানো হয়েছে এমন ১০ জনের নাম বলতে পারলে নাকে খত দিয়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো।
‘অসংখ্য রাজাকারকে ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের’ অভিযোগের প্রেক্ষিতে শীর্ষনিউজের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী একথা বলেন।
আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে ‘একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা’ নামের একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়। মুক্তিযুদ্ধাদের নতুন ওই সংগঠনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন ‘মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দেয়ার নামে হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য হচ্ছে’। তাদের অভিযোগ, দেশের উপজেলাগুলোতে গঠিত মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি অ-মুক্তিযোদ্ধা—এমনকি রাজাকারদের থেকে ২-১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য করা হচ্ছে। সংগঠনটির অভিযোগ, মুক্তিযোদ্ধা বানানোর নামে যে বাণিজ্য চলছে, সে বাণিজ্যের ভাগ মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডারসহ ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও পাতি নেতারা পেয়েছেন।
নতুন সংগঠনটির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, অ-মুক্তিযুদ্ধারা সনদ পেয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেটি আমার দায়িত্ব পালনকালে নয়, আগে হয়েছে এসব। এগুলো সংশোধন করে সঠিক তালিকা করতে সময় লাগছে। এ কাজে আদালতের মাধ্যমে বাধা পাচ্ছি। মন্ত্রী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে অ-মুক্তিযুদ্ধা কেউ মুক্তিযুদ্ধাদের তালিকায় এসেছে’ যদি কেউ এমন দশজনের নাম বলতে পারেন তাকে পুরস্কৃত করা হবে। একইসঙ্গে নাকে খত দিয়ে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দেবো।
এদিকে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনটির আহ্বায়ক আবীর আহাদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই দেড় লাখের বেশি হবে না। কিন্তু বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি। তাদের দাবি, এই সংগঠনটি প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে গঠিত হয়েছে। মূলত দুইটি দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই সংগঠনটি গঠিত হয়েছে বলে তারা জানান। দাবি দুটি হলো মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকা থেকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বাতিল করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*