Sunday , 17 January 2021
আপডেট
Home » গরম খবর » ডিজিটাইজেশনের সঙ্গে নিরাপত্তায়ও লক্ষ্য রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী
ডিজিটাইজেশনের সঙ্গে নিরাপত্তায়ও লক্ষ্য রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডিজিটাইজেশনের সঙ্গে নিরাপত্তায়ও লক্ষ্য রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাইজেশনের পাশাপাশি এর নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যথাযথ নিরাপত্তা না থাকার কারণে রিজার্ভ চুরির মতো ঘটনাও ঘটেছে।
২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে জালিয়াতি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপিন্সের একটি ব্যাংকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দেশের অভ্যন্তরের কোনো একটি চক্রের সহায়তায় এই অর্থ পাচার হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
বুধবার কাকরাইলে বাংলাদেশের সুপ্রিম অডিট ইনস্টিটিউটের নতুন ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ডিজিটাল পদ্ধতি যখনই আমরা গ্রহণ করব, সাথে সাথে তার নিরাপত্তার দিকটা কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে। “এই পদ্ধতিগুলো যখনই আমরা গ্রহণ করব, তার সাথে সাথে তার ফায়ারওয়াল থাকতে হবে, নিরাপত্তা থাকতে হবে। সাইবার ক্রাইম একটা ক্রাইম, যা অনেক সময় আমাদের অনেক তথ্য ক্ষতিগ্রস্ত করে ফেলে। সেখান থেকেও কিভাবে নিরাপত্তটা দিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সেটা যদি আমরা না করি, তাহলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”
রিজার্ভ চুরির প্রসঙ্গ টেনে এনে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আমাদের অর্থ পাচার হয়ে গেল। আমরা ডিজিটাল পদ্ধতি সেখানে গ্রহণ করেছিলাম। কিন্তু, যেভাবে, যে পদ্ধতিতে ফায়ারওয়ালটা করা উচিত ছিল; সেটা কিন্তু তখনও করা হয়নি। যার জন্য এটা করতে পেরেছিল। এ ব্যাপারগুলো ভালোভাবে লক্ষ্য রাখা দরকার।”
জনগণের অর্থ সাশ্রয় এবং দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অডিট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টস ডিপার্টমেন্টকে আরও দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, “দুর্নীতি বা টাকা পয়সা নিয়ে অনিয়ম আমরা কোনোদিন বরদাস্ত করব না। এক্ষেত্রে আপনারা আরো বেশি নরজদারি করবেন; সেটাই আমরা চাচ্ছি।”
সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৩ সালের ১১ মে বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের কার্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে দ্য কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (এডিশনাল ফাংশন্স) অ্যাক্ট ১৯৭৪ প্রণয়ন করা হয়।
সরকারি অর্থের অপচয়, আত্মসাৎ, জালিয়াতি, চুরি, বিধিবহির্ভূত পরিশোধ, আয়কর ও ভ্যাট আদায় না করা, আইন, বিধি, নির্বাহী আদেশ পালন না করা, সরকারি নিয়মনীতি ও আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ না করা, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না করাসহ নানা অনিয়ম উদঘাটনে অডিট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে বলেও প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন।
শেখ হাসিনা বলেন, “অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের পরিধি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় অডিট বিভাগকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। গতানুগতিক অডিটের বাইরে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক অডিট, পারফরমেন্স অডিট, আইটি অডিট, পরিবেশ বিষয়ক অডিট পরিচালনায় দক্ষতা অর্জন করা একান্তভাবে প্রয়োজন।”
শিগগিরই অডিট মনিটরিং অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম শুরু হওয়ার বিষয়ে আশা প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ভবিষ্যতে এটি সকল মন্ত্রণালয়কে সংযুক্ত করবে এবং মানসম্পন্ন অডিট রিপোর্ট যথাসময়ে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি হ্রাসের লক্ষ্যে আধুনিক অডিট ব্যবস্থার উপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, “আমাদের সরকারের ধারাবাহিক দুই মেয়াদে দেশে দুর্নীতি অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনও এখন অনেক স্বাধীনভাবে কাজ করছে। সরকারের এমপি-মন্ত্রীদেরও তারা যদি মনে করে জিজ্ঞাসাবাদ করবে; আমরা কিন্তু বাধা দিই না। আমাদের সংসদ সদস্যরাও গিয়ে তথ্য দিয়ে আসছে।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে সরকারের ব্যয় সম্পাদনের পরে অডিট কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যয় হওয়ার আগে এবং এমনকি ব্যয় কার্যক্রম চলাকালেও অডিট কার্যক্রম জোরদার হলে আর্থিক অপচয় ও অনিয়ম বহুলাংশে হ্রাস পাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।” লোকবলের সমস্যা সমাধানেরও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে অর্থ প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, অর্থ সচিব মোহাম্মাদ মুসলিম চৌধুরী এবং কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেলারেল মাসুদ আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*