Monday , 30 November 2020
আপডেট
Home » তথ্য ও প্রযুক্তি » জমকালো আয়োজনে বাজাজ পালসার এনএস১৬০ সিসি উন্মোচন করলো উত্তরা মোটর্স
জমকালো আয়োজনে বাজাজ পালসার এনএস১৬০ সিসি উন্মোচন করলো উত্তরা মোটর্স

জমকালো আয়োজনে বাজাজ পালসার এনএস১৬০ সিসি উন্মোচন করলো উত্তরা মোটর্স

সুমন চৌধুরী : বাজাজ পালসার এনএস ১৬০ নিয়ে অনেকদিন ধরে পালসারপ্রেমীদের মনে কৌতুহল ছিল। অবশেষে সব কৌতুহলের অবসান ঘটিয়ে রবিবার বাজারে পালসারের ১৬০ সিসি সেগমেন্টের সাড়া জাগানো নতুন বাইক নিয়ে এলো উত্তরা মোটর্স লিমিটেড।
রবিবার রাতে জমকালো আয়োজনে রাজধানীর কুড়িলের আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে বাইকটি প্রদর্শন ও বিক্রির ঘোষণা দেয় দেশে বাজাজের পরিবেশক উত্তরা মোটর্স লিমিটেড।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়্যারম্যান মতিউর রহমান, নির্বাহী পরিচালক কাজী এমদাদ হোসেন ও বাজাজ অটো লিমিটেডের দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান ভিশাল গুপ্তসহ বাজাজ ইন্ডিয়ার প্রতিনিধিরা। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মতিউর রহমান বলেন, আমাদের দেশে সড়কে চলাচলের জন্য বাইকের গুরুত্ব অপরিসীম। যানজটের নগরীতে বাইকে চলাচল করতে অনেকটা সহজ। পালসার দেশের বাজারে আসার পর থেকেই তরুণদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। বাইকটি বাজারে আসার ঘোষণা দিতেই ইতোমধ্যে শতাধিক প্রি-বুক হয়েছে। আকর্ষণীয় লুকিংয়ের সাথে গতির সমন্বয়ে বাইকটি হয়েছে দুর্দান্ত।
উত্তরা মোটর্স লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক বলেন, ফাস্টেস্ট বাংলাদেশি স্লোগানে বাইকটি দেশের বাজারে অবমুক্ত করা হলো। বাজাজ এন এস ১৬০ সিসির এই বাইকটি এক কথায় থ্রিল মেশিন। এই বাইকটিতে শক্তিশালী ১৬০ সিসির টুইন স্পার্ক ইঞ্জিন, নিট্রক্সের মনো শক রিয়ার সাসপেনশন এবং চতুর্ভুজ আকৃতির এক্সহস্ট ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক বাইকটির নিয়ন্ত্রণে অসাধারণ ভূমিকা রাখবে।এই বাইকটি তরুণদের আশার চেয়েও বেশি কিছু হবে বলে আমার বিশ্বাস।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ৩ লাখের বেশি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেল চলছে। তরুণদের প্রথম পছন্দের ব্র্যান্ডের বাইকটিকে আরো স্পোর্টি, শক্তিশালী এবং দ্রুততর ভার্সনে বাজারে আনা হলো। বাজাজ পালসার এনএস ১৬০ দেখতে অনেকেটা এনএস ২০০ সিসি মোটরসাইকেলের মতই। স্টাইল, আউটলুক অনেক কিছুর মাঝেই এর সাথে এনএস ১৬০ এর মিল রয়েছে।
শার্প হেডল্যাম্প, এলইডি টেইল ল্যাম্প এর আকর্ষণীয় ডিজাইন ,স্কিনি টায়ার ইত্যাদি অনেক কিছুর মাঝে আলাদা একটা আকর্ষণীয়তা রাখার চেস্টা করা হয়েছে। বডিওয়ার্ক এর মাঝেও তেমন কোন পরিবর্তন না রাখা হলেও রাখা হয়েছে নতুন নীল কালার স্কিম। রয়েছে, রেড, গ্রে এবং হোয়াইট শেড যা শুধুমাত্র বাজার পালসার এনএস ২০০ এর মাঝেই এতোদিন ছিলো ।
এনএস ২০০ এর মাঝেও কিন্তু অনেক আধুনিক ফিচার ছিল। যেমন ধরুন, ক্লিপ অন হ্যান্ডেলবার, ডিজিটাল এনালগ কনসোল, স্প্লিট গ্র্যাব রেইল, স্প্লিট সিট ইত্যাদি । ঠিক তেমনভাবেই এনএস ১৬০ এর মাঝেও এমন কিছু ফিচার রাখা হয়েছে এবং যার ফলে এটির মুভমেন্ট অনেক সহজ যদিও এনএস ১৬০ একটি পাতলা ওজনের মোটরসাইকেল কিন্তু নয় এবং ওজন ১৪২ কিলো । ষ্টি কিংবা যেকোন রকমের রাস্তার সাথে খাপ খাইয়ে নেবার জন্য এর মাঝে রয়েছে এমআরএফ এর টায়ার যা সামনের দিকে রয়েছে ৮০/১০০-১৭ টায়ার সিস্টেম এবং পেছনে ১১০/৮০-১৭ টায়ার সিস্টেম।
বাজাজ পালসার এনএস ১৬০ এর ব্রেকিং সিস্টেম কিন্তু অনেকটাই বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি বাইকের মতো। ফ্রন্ট সাইডে দেয়া হয়েছে ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেকিং সিস্টেম এবং রিয়ার সাইডে রয়েছে ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেকিং সিস্টেম।
স্ট্যান্ডস্টিল টেকনোলজির সুবিধার ফলে ইচ্ছে করলেই ৮০ কিলোমিটার গতি থাকা সত্ত্বেও মুহূর্তে ব্রেকিং এর কার্যকারিতা টের পেতে পারে। ব্রেকিং টেস্টের মাঝে এটি ৮০ কিলোমিটার গতিতে স্ট্যান্ডস্টিল হতে সময় নেয় ৩.৮২ সেকেন্ড ৩৯.৫৪ মিটার দুরত্বের মাঝে এবং ৬০ কিলোমিটার গতিতে ২.৮৩ সেকেন্ড সময় নেয় ২০.১৮ মিটার এর মাঝে ।
ইঞ্জিন বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বাইকগুলোর মতোই এবং একই কোয়ালিটির। এটি এএস ১৫০ সিরিজের ইঞ্জিন এর মাধ্যমে পরিচালিত। শক্তিশালী স্ট্রোক এর মাধ্যমে এটি ১৬০.৩ সিসি ক্ষমতা প্রদান করতে সক্ষম।
ম্যাক্সিমাম আরপিএম ৮৫০০ যা ১৪.৬ টর্ক এর মাঝে পাওয়া যায় । এক্ষেত্রে এর প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে একমাত্র হোন্ডা হরনেট ।
০-৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত স্পিড লিমিট এ পৌঁছাতে এর সময় লাগে ৫.৩৫ সেকেন্ড। ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত এর সময় প্রয়োজন পরে ১৬.৫৪ সেকেন্ড।
গিয়ার সিস্টেম হিসেবে রয়েছে ৫ স্পিড গিয়ার বক্স সিস্টেম। গিয়ার সিস্টেম সম্পূর্ণ টল র‌্যাটিয়াস এবং শিফটিং সিস্টেম। আর পরিবর্তনের সময় তেমন ঝামেলা নেই বললেই চলে।
স্টিল রিজিড পেরিমিটার ফ্রেমের মধ্যে বাইকটির ইঞ্জিন বসানো হয়েছে ফলে অত্যন্ত সাবলীলভাবে এটি পরিচালনা করা যায়।বাইকটিতে সর্বোচ্চ ১২ লিটার পর্যন্ত তেল ধারণের ফুয়েল ট্যাঙ্ক রয়েছে যা দীর্ঘ পথ পাড়ি দেয়ার ক্ষেত্রে আদর্শ একটি পরিমাণ।
বাজাজ পালসার এনএস ১৬০ সিসির মূল্য ১ লাখ ৯৯ হাজার ৫০০ টাকা। ইতোমধ্যে এটি বিক্রির জন্য প্রি-বুকিং নেয়া শুরু হয়েছে। উত্তরা মোটর্সের সকল শোরুমে এই বাইকটি পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*