Sunday , 17 January 2021
আপডেট
Home » তথ্য ও প্রযুক্তি » বিইউপিবিজিএ-এর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত
বিইউপিবিজিএ-এর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

বিইউপিবিজিএ-এর বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত

আজকের প্রভাত প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রোফেশনাল্স বিজনেস গ্রাজুয়েট অ্যালামনাই (বিইউপিবিজিএ) সম্প্রতি ঢাকার অদূরে সাভারের মির্জানগরে অবস্থিত গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গণস্বাস্থ্য পিএইচএ-এর প্রাঙ্গণে বার্ষিক বনভোজন সম্পন্ন করেছে। অ্যালামনাই-এর সদস্য এবং তাদের পরিবার-পরিজনের অংশগ্রহণে এই বনভোজন হয়ে ওঠে মুখরিত।
প্রতিদিন একঘেঁয়ে একটা জীবন। রুটিন চক্রে ঘুর্ণায়মান। অ্যালার্ম বাজলেই উঠে রেডি, অফিসের জন্যে দৌঁড়, সারাদিন কর্মব্যস্ত জীবন শেষে বিছানার কাছে সমর্পণ। তবুও বলতে হয় ভালো আছি এই যান্ত্রিক শহর আর সময়ের মধ্যে। নিরস ভালো থাকার এই জীবন কিছুটা সরস হয় একটি ছুটি পেলে। তবে, সেদিন যদি দেখা মেলে পুরনো বন্ধুদের সাথে তাহলে তো সেই সরসের রসদটাই হয় অন্যরকম! দীর্ঘদিনের না দেখা বন্ধু, অনুজ আর অগ্রজদের নিয়ে চমৎকার এক আনন্দঘন মুহুর্ত কাটালো বিইউপিবিজিএ-এর সদস্যরা।
গণস্বাস্থ্য পিএইচএ-এর সবুজ গাছপালা ঘেরা এই প্রাঙ্গণটি হয়ে উঠেছিলো এক আত্মিক মিলনমেলায়। রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস থেকে সকাল সাড়ে ৭টায় যাত্রা শুরু করে সকাল সাড়ে ৯টায় বনভোজন স্থানে পৌঁছেই দীর্ঘদিন না দেখা বন্ধুকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যে তারই প্রমাণ মেলে। সেলফি আর ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ঝলকে ফুঠে ওঠে শত স্মৃতির মুহুর্ত।
এরই মধ্য দিয়ে শেষ হয় সকালের নাস্তার পর্ব। তারপর আর বসে থাকা নয়। অ্যালামনাই-এর সদস্য, স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এই প্রাঙ্গণটি কিছুক্ষণের জন্য হয়ে উঠেছিলো বড় একটি ক্রীড়াঙ্গণ। নারী-পুরুষ এবং শিশুদের জন্য আলাদা আলাদা খেলাধূলা পুরো আয়োজনটিকে করেছিলো আরও মনোরম। ততক্ষণে বেলা গড়িয়ে দুপুর। খেলার ছলে সময় পেরিয়ে এসেছে দুপুরের খাবারের। পেটের ক্ষুধা আর ক্লান্তি শরীরকে অলস করলেও মন তখনও দৃঢ়। পাশেই রান্নার স্থান থেকে ভেসে আসা ঘ্রাণ মনকে প্রাণবন্ত রেখেছে। খাবার টেবিল প্রস্তুত। বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এক টেবিলে নানারকম মুখরোচক খাবারের সাথে সেলফি কি বাদ যায়! সেলফি বাদ না গেলেও খাবার টেবিলে বসে বন্ধুদের অনুযোগে বাদ গেছে স্বাস্থ্য সচেতনদের ডায়েটের চিন্তা।
এমন ভারী খাবারের পর শরীরের অলসতা কাটানো প্রয়োজন। তাইতো, আয়োজনে কমতি ছিলো না সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। নিজেদের মধ্যেই যে এতো ভালো পারফরমার ছিলো তা হয়তো অনেকেরই জানা ছিলো না। ঘরোয়া পরিবেশে এমন মনমাতানো আয়োজন কেবল স্মৃতির ফ্রেমকেই ভারী করেনি বরং মুগ্ধ করেছে সবাইকে। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার সাথে সাথে পুরো আয়োজন শেষ হতে পারতো। কিন্তু হয়নি, রয়ে গেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্ব। খেলাধূলার বিজয়ীদের পুরস্কার, র‌্যাফেল ড্র এবং অ্যালামনাই-এর নতুন ওয়েবসাইট উন্মোচন দিনব্যাপি এই আয়োজনকে করে একদম পরিপূর্ণ।
দিন শেষে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। সময় হয়েছে কংক্রিটের নগরীতে ফিরে যাবার। পরদিন থেকে আবার শুরু হবে ব্যস্ত জীবনের পথ চলা। জীবনে চলার জন্য যেসব অনুষঙ্গ ফুয়েল হিসেবে কাজ করে আজকের এই আয়োজনটির নানা মুহুর্ত বিইউপিবিজিএ-এর সদস্যদের জন্য তেমনি এক ফুয়েল। যে ফুয়েল দিনের সুর্য কিংবা রাতের আঁধার শেষ হওয়ার সাথে বিলীন হয় না। অমলিন থাকে জীবনের নানা মুহুর্তের সাথে, স্মৃতির ফ্রেমে।
উল্লেখ্য, বিইউপিবিজিএ সম্প্রতি নিবন্ধন সম্পন্ন করে। সংগঠনটির ১৯ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাহী কমিটি রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক নানা কর্মকা- আয়োজন করে সংগঠনটি। তারই অংশ হিসেবে এই বার্ষিক বনভোজনের আয়োজন। এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ভবিষ্যতেও নানামুখী কার্যক্রম হাতে নেওয়ার আশা প্রকাশ করেন সংগঠনের সদস্যরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*