Monday , 26 October 2020
আপডেট
Home » জাতীয় » আমরা সমুদ্রে গিয়েছি আকাশেও যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
আমরা সমুদ্রে গিয়েছি আকাশেও যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

আমরা সমুদ্রে গিয়েছি আকাশেও যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব সংবাদদাতা: বাংলাদেশের বিপুল সমুদ্র সম্পদ, ধান, পাট, বস্ত্রসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রমের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে বিজ্ঞানী ও গবেষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আমাদের সমুদ্রে বিপুল সম্পদ রয়েছে। ব্লু ইকোনমির এই সম্ভাবনাকে আমাদের কাজে লাগাতে হবে। এজন্য বিজ্ঞানী ও গবেষকদের নতুন নতুন গবেষণা এবং উদ্ভাবনে কাজ করতে হবে। আমরা সমুদ্রে গিয়েছি, এখন আকাশেও যেতে চাই।
রোববার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয়/গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংস্থার শিক্ষক, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, এনএসটি ও বিশেষ গবেষণা অনুদান-২০১৮ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব অনোয়ার হোসেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ডা. রুহুল হক অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ১১৬ জনকে বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ, ২৩৫৮ জনকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ (এনএসটি) এবং ১৪১টি প্রকল্পকে গবেষণা অনুদান প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী টোকেন হিসেবে ২০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হাতে ফেলোশিপ ও অনুদানের চেক তুলে দেন।
গবেষণায় সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাট আমাদের অমূল্য সম্পদ। আমাদের পাট তো ধ্বংস করেই দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখান থেকে পাটকে আমরা বহুমুখী করার চেষ্টা করছি। গবেষণা করে পাটের জিনোম উদ্ভাবন করা হয়েছে।
ধানের গবেষণা করা হচ্ছে। যেসব লবণাক্ত এলাকায় ধান উৎপাদন হতো না আমাদের বিজ্ঞানীদের গবেষণার ফলে এখন লবণাক্ত, খরা, বন্যাসহিষ্ণু ধান উৎপাদন হচ্ছে। বস্ত্রের উন্নয়নেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিভিন্ন ইনস্টিটিউট গঠন করা হয়েছে, যারা এসব ক্ষেত্রে উন্নয়নে কাজ করছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, এভাবেই বিভিন্ন গবেষণা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে দিয়ে আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী দেশে পরিণত হবো।
শেখ হাসিনা বলেন, পরমাণু কমিশন রয়েছে, যা জাতির জনক করে দিয়ে গিয়েছিলেন। বর্তমানে আমরা পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়েছি। এজন্য প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকবল দরকার। সেভাবে ট্রেনিংও দেয়া হবে। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপত্তার জন্য বিজ্ঞানী ও গবেষক দরকার। কয়েকটা ধাপে এর নিরাপত্তা থাকবে। আমরা সেভাবেই পদক্ষেপ নিয়েছি। এ জন্য ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুধু পুলিশ, আর্মি দিয়ে এর নিরাপত্তা সম্ভব নয়। তারা তো থাকবেনই এ ছাড়া টেকনিক্যাল বিষয়ে জ্ঞান আছে এমন লোকও আমাদের তৈরি করতে হবে।
প্রধামন্ত্রী বলেন, সমুদ্র সম্পদ রক্ষায় পদক্ষেপ নিয়েছি। যা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজে লাগবে। চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সমুদ্র বিজ্ঞান বিষয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। এর আগে তো এসব বিষয়ে কোনো পড়াশুনাই ছিল না। ধীরে ধীরে অন্যসব বিশ্ববিদ্যালয়েও এসব সাবজেক্ট শুরু হবে।
কক্সবাজারে সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সমুদ্রপাড়ে একটি সি অ্যাকুরিয়াম গড়ে তুলবো। এটি গবেষণায় যেমন প্রয়োজন, তেমনি পর্যটক আকর্ষণেও ভূমিকা রাখবে। এ জন্য গবেষণা দরকার। ধাপে ধাপে আমরা এসব করছি।
স্যাটেলাইটের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আমরা সমুদ্রে গিয়েছি, স্যাটেলাইটও উৎক্ষেপণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অরল্যান্ডোতে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে অচিরেই। সেখানে দুর্যোগের কারণে বারবার উৎক্ষেপণের সময় পেছানো হচ্ছে।
বিজ্ঞানমনষ্ক জাতি গঠনের কথা বিবেচনায় নিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মরণে ‘বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ অন সাইন্স অ্যান্ড আইসিটি’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারই ধারাবাহিকতায় আমরা গঠন করেছি ‘বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ ট্রাস্ট’। জাতীয় পর্যায়ে দক্ষ ও বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, প্রযুক্তিবিদ ও গবেষক তৈরিই এ ট্রাস্টের উদ্দেশ্য।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তথ্য-প্রযুক্তির ব্যাপক প্রয়োগ হয়েছে। ২০২১ সালের আগেই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার সব উদ্যোগ সম্পন্ন করেছি।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের বিজ্ঞানীরা জীব-প্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে লবণসহিষ্ণু এবং খরা-সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করেছেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এটি আমাদের মাইলফলক অগ্রগতি। বিজ্ঞানীরা ধানের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পরিবেশবান্ধব জীবাণু-সার উদ্ভাবন করেছেন। হিউম্যান ডিএনএ প্রোফাইলিং সুবিধা সৃষ্টি সম্ভব হয়েছে। বস্ত্র, চামড়া ও ডিটারজেন্ট শিল্পে ব্যবহারের জন্য এনজাইম তৈরি সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে আমাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধন করবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি। প্রযুক্তিনির্ভর, জ্ঞানভিত্তিক, দারিদ্র্যমুক্ত, মধ্যম আয়ের বাংলাদেশ গড়ার উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে আমারা কাজ করে যাচ্ছি।
বঙ্গবন্ধুর একটি ভাষণ থেকে তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমাদের রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামের সমাপ্তি এবং অর্থনৈতিক মুক্তিযুদ্ধের শুরু। এই যুদ্ধে এক মরণপণ সংগ্রাম আমরা শুরু করেছি। এই সংগ্রাম অনেক বেশি সময়সাপেক্ষ ও কষ্টসাধ্য। তবে আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থেকে কঠোর পরিশ্রম করি এবং সৎ পথে থাকি তবে, ইনশাল্লাহ জয় আমাদের অনিবার্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*