Tuesday , 20 April 2021
আপডেট
Home » জাতীয় » ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন বহিষ্কৃত নেত্রীর
ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন বহিষ্কৃত নেত্রীর
ছাত্রলীগ নেত্রী খালেদা হোসেন মুন

ছাত্রলীগের নেতৃত্ব ও তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন বহিষ্কৃত নেত্রীর

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কবি সুফিয়া কামাল হলে ছাত্রী বিক্ষোভের ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে প্রশ্ন তুলে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন হল শাখা ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সাহিত্য বিষয়ক সম্পাদক খালেদা হোসেন মুন। ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে মারধরের ঘটনায় নিজ সংগঠন থেকে বহিষ্কার হন মুন। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অনাস্থার কথা জানান।
ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের মুখে কবি সুফিয়া কামাল হল ছাত্রলীগের সভাপতি ইফফাত জাহান এশাকে বিশ্ববিদ্যালয়, হল ও ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। পরে ছাত্র বিক্ষোভ থামলে পর্যায়ক্রমে ছাত্রলীগ, হল ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেয়। উল্টো সুফিয়া কামাল হলের তদন্ত কমিটি নিপীড়নের শিকার কয়েক ছাত্রীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করে। এশাকে অভিযোগ থেকে মুক্তি দেয়া হয়। পাশাপাশি ছাত্রলীগও এ ঘটনায় ২৪ জনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করে। শুরু থেকেই এ বহিষ্কারাদেশ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত কমিটির দুর্বলতা তুলে ধরে ছাত্রলীগ নেত্রী মুন বলেন, তথাকথিত তদন্ত কমিটির মাধ্যমে আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অথচ এ তদন্ত কমিটি আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগই করেনি। পাশাপাশি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে যাদের বহিষ্কার করা হয়েছে তাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়। কারণ বহিষ্কৃতদের মধ্যে একজন ঘটনার দু’দিন আগে দেশত্যাগ করেন, একজন ঘটনার ১০ দিন আগে হাতে আঘাতপ্রাপ্ত হন। তাহলে তারা কিভাবে ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন? তিনি প্রশ্ন রাখেন- কমিটি ঠিকভাবে তদন্ত করলে বহিষ্কৃতদের পূর্ণ নাম না লেখা এবং কয়েকজনের বিভাগ ভুল লেখার কারণ কি?
নিজেকে নির্দোষ দাবি করে এ ছাত্রলীগ নেত্রী বলেন, আমি গত ১ বছর ধরে হলে থাকি না। ঘটনার রাতেও আমি হলে ছিলাম না। ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিও আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তাহলে আমি কিভাবে দোষী হই। কোন অপরাধের ভিত্তিতে আমাকে বহিষ্কার করা হলো?
তিনি এ বহিষ্কারের ঘটনায় ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং তদন্ত কমিটির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করে বলেন, অগঠনতান্ত্রিক এ ঘটনায় দুটি পক্ষই সমানভাবে দায়ী। তাই এ ঘটনায় আমি পুনরায় তদন্তের দাবি জানাচ্ছি এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।
এশার সঙ্গে তার কোনো দ্বন্দ্ব নেই উল্লেখ করে মুন বলেন, ‘এশা আমারই ছোট বোন ছিল। আমার সহযোগিতায় সে হলে উঠেছে। পরে তার মাধ্যমে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় আমি মেয়েদের হলে উঠাতাম।’
দ্বন্দ্ব না থাকলে এশাকে কেন তার প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে এটাই আমার প্রশ্ন। কেন আমাকে বিনা অপরাধে বহিষ্কার করা হয়েছে?
যেই কমিটি ছাত্রলীগ নেত্রী খালেদা হোসেন মুনকে অভিযুক্ত করে বহিষ্কারের সুপারিশ করে, এ তদন্ত কমিটিই ছাত্রী নিপীড়নের ঘটনায় অভিযুক্ত ইফফাত জাহান এশাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলে প্রতিবেদন দেয়। এত বড় একটি ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কমিটির দেয়া প্রতিবেদন শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়ে। এ বিষয়ে ইফফাত জাহান এশাকে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*