Friday , 23 April 2021
আপডেট
Home » আন্তর্জাতিক » মরিয়ম নওয়াজের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোসফ্টের ক্যালিব্রি ফন্ট
মরিয়ম নওয়াজের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোসফ্টের ক্যালিব্রি ফন্ট
মরিয়ম নওয়াজ

মরিয়ম নওয়াজের মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মাইক্রোসফ্টের ক্যালিব্রি ফন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নওয়াজ শরিফের মেয়ে মরিয়ম নওয়াজকে সাজা দিয়ে ঘোষণা করা দুর্নীতি মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করা হয়েছে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে। তাতে মরিয়মের আত্মপক্ষ সমর্থনে উল্লেখ করা যুক্তিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে স্থান করে নিয়েছে মাইক্রোসফ্ট করপোরেশনের ওয়ার্ড প্রসেসিং সফ্টওয়্যার এমএস ওয়ার্ডে ব্যবহৃত ক্যালিব্রি ফন্ট। ওই ফন্টটি আদতে কত সাল থেকে পাওয়া যেত সে তথ্যের ওপর মরিয়ম নওয়াজের দাখিল করা ঘোষণাপত্রের সত্যতা নির্ভর করছে। নিজের মালিকানা থাকার কথা উল্লেখ করে দাখিল করা ওই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে সরকার পক্ষ যুক্তি দিয়েছে, ২০০৬ সালের তারিখে স্বাক্ষর করা নথিটি আসলে ওই সময়ের নয়। কারণ সেটি ক্যালিব্রি ফন্টে প্রিন্ট করা। ২০০৬ সালে ক্যালিব্রি ফন্ট সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য প্রাপ্য ছিল না। ২০০৭ সালের দিকে সেটি প্রথমবারে মতো সাধারণ ব্যবহারকারীদের হাতে যায়। সোমবার হাইকোর্টে মরিয়মের দাখিল করা আপিল আবেদনে ক্যালিব্রি ফন্টের প্রকাশকাল সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরে দাবি করা হয়েছে, মরিয়মের দাখিল করা ঘোষণাপত্রটি জাল নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ উইক তাদের এক প্রতিবেদনে ক্যালিব্রি ফন্টে প্রিন্ট করা মরিয়মের ঘোষণাপত্র সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরেছে।
মরিয়ম নওয়াজের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের ‘অ্যাকাউন্টিবিলিটি কোর্ট’ দুর্নীতি মামলার যে রায় দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, মরিয়মকে তার বাবা নওয়াজ শরিফের দুর্নীতিতে সহযোগিতা করার দায়ে ৭ বছর এবং তদন্তে অসহযোগিতার জন্য আরও এক বছর কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে ওই দুই কারাদণ্ড একই সঙ্গে কার্যকর হবে। কারাদণ্ড ছাড়াও মরিয়মকে ৩ কোটি ৫০ লাখ রুপি জরিমানা করা হয়েছে। ২০১৬ সালে ‘পানামা পেপার্স’ নামে খ্যাত গোপন নথি ফাঁসের ঘটনার মধ্য দিয়ে নওয়াজ শরিফ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্দে দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়। ফাঁস হয়ে যাওয়া ওই নথিগুলো থেকে জানা গিয়েছিল, নওয়াজ শরিফ ও তার সন্তানরা ব্রিটিশ ভার্জিনিয়া আইল্যান্ডে অবস্থিত দুইটি অফসোর প্রতিষ্ঠানের মালিক। ওই প্রতিষ্ঠান দুইটি লন্ডনের বিলাসবহুল স্থাবর সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করেছে। পাকিস্তানের তদন্ত সংস্থা মনে করে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ও পাচার করা অর্থ দিয়ে ওইসব সম্পত্তি কেনা হয়েছে।। তদন্তে তারা জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট দুটি অফসোর প্রতিষ্ঠানের একটির শতভাগের মালিক মরিয়ম নওয়াজ।
মরিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে যেসব নথি পরবর্তীতে দাখিল করেছিলেন, তার মধ্যে একটি নথি ছিল ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকানা থাকার কথা স্বীকার করে দেওয়া ঘোষণাপত্র। সমস্যা দেখা দেয় নথির প্রিন্টে ব্যবহৃত ক্যালিব্রি ফন্ট নিয়ে। মাইক্রোসফ্ট করপোরেশনের উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমে ব্যবহৃত ওয়ার্ড প্রেসেসিং সিস্টেমে বহুল ব্যবহৃত ক্যালিব্রি ফন্টটি নিয়ে নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেন তদন্তকারীরা। তারা দাবি করেন, ২০০৬ সাল পর্যন্ত ক্যালিব্রি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়নি। ২০০৭ সাল নাগাদ সেটি ব্যবহারকারীদের হাতে পৌঁছায়। অর্থাৎ ২০১৬ সালে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পরে মরিয়ম ২০০৬ সালের তারিখ দিয়ে যে নথি আত্মপক্ষ সমর্থনে দাখিল করেছেন অত আগের প্রিন্ট করা হতে পারে না। তখন ব্যবহার কারিদের হাতে ক্যালিব্রি ফন্ট ছিল না। তদন্তকারীরা তাই মরিয়মের ওই ঘোষণাপত্রকে নথিকে জাল দাবি করেছেন।
মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ জানিয়েছে, ক্যালিব্রির প্রস্তুতকারী লুকাস ডি গ্রুটোও মনে করেন, তার তৈরি ক্যালিব্রি ফন্ট দিয়ে মরিয়মের নামে যে ঘোষণাপত্র প্রিন্ট করা হয়েছে তা ২০০৬ সালে তৈরি নয়। ২০০৭ সালে এমএস ওয়ার্ডে টাইমস নিউ রোমান ফন্টকে সরিয়ে ক্যালিব্রিকে এবং এক্সেল, আউটলুক এবং পাওয়ার পয়েন্টে এরিয়াল ফন্টকে সরিয়ে ডিফল্ট ফন্ট করা হয় ক্যালিব্রিকে। ২০১৬ সালে এমএস অফিসে ডিফল্ট ফন্ট হিসেবে থাকে ক্যালিব্রি। আর ২০১৬ সালেই ‘পানামা পেপার্স’ নামে খ্যাত ফাঁস হওয়া নথিগুলোতে মরিয়মের দুর্নীতি সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসে।
কিন্তু সোমবার মরিয়মের আইনজীবী ইসলামাবাদ হাইকোর্টে যে আপিল আবেদন জমা দিয়েছেন তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্যালিব্রি ফন্ট ২০০৬ সালে পাওয়া যেত না এমন নয়। ২০০২-২০০৪ সালের মধ্যে প্রস্তুত করা ফন্টটি উইন্ডোজ ভিসতার পরীক্ষামূলক সংস্করণে অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং অপারেটিং সিস্টেমটির পরীক্ষামূলক সংস্করণ ডাউনলোড করলে ক্যালিব্রি ফন্টটি ব্যবহারের জন্য পাওয়া যেত। রবার্ট র‌্যাডলি নামের যুক্তরাজ্যের যে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞকে পাকিস্তান সরকার সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করেছিল, তিনিও বিবাদী পক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে ২০০৫ সাল থেকে ক্যালিব্রি ফন্টের প্রাপ্যতার বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*