Sunday , 11 April 2021
আপডেট
Home » আন্তর্জাতিক » ইসরাইলে বিতর্কিত ‘ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র’ আইন পাস
ইসরাইলে বিতর্কিত ‘ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র’ আইন পাস

ইসরাইলে বিতর্কিত ‘ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র’ আইন পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিতর্কিত ‘ইহুদি জাতি-রাষ্ট্র’ আইনের সমর্থনে ভোট দিয়েছে ইসরাইলের পার্লামেন্ট। এই আইন অনুসারে, এখন থেকে ইসরাইলে আত্ম-পরিচয় নির্ধারণের অধিকার পাবেন পৃথিবীর সকল ইহুদিরা। অন্যভাবে, তারা সেখানে বসবাসের সুযোগ পাবেন। বৃহস্পতিবার এই বিতর্কিত আইন পাস হয়েছে ইসরাইলী পার্লামেন্ট ন্যাসেটে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
খবরে বলা হয়, ন্যাসেটের সংখ্যালঘু ফিলিস্তিনি সদস্যরা এই আইনটিকে জাতি-বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন। তবে আইনটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী সরকার। পার্লামেন্টে এর পক্ষে ভোট পড়েছে ৬২টি আর বিপক্ষে পড়েছে ৫৫টি। ভোটদানে বিরত ছিলেন দুই সদস্য। ভোটের পরে বেশ কয়েকজন আরব আইনপ্রণেতা চিৎকার করে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ছিড়ে ফেলেন।
প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আইনটি নিয়ে বলেন, এটা ইহুদীবাদ ও রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের ইতিহাসের সংজ্ঞা নির্ধারণী মুহূর্ত। বৃহৎ পরিসরে প্রতীকী এই আইনটি, ইসরাইলের ৭০তম বর্ষপূর্তির মাত্র কয়েকদিন পরেই কার্যকর করা হলো। আইনটি অনুসারে, ইসরাইল হচ্ছে ইহুদিদের জন্মভূমি ও এখানে তাদের আত্ম-পরিচয় নির্ধারণের একক অধিকার রয়েছে।
আইনটি পাস হওয়ায়, হিব্র“র পাশাপাশি ইসরাইলের রাষ্ট্রীয় ভাষার স্বীকৃতি হারিয়েছে আরবি ভাষা। একে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে, যার কারণে ইসরাইলী প্রতিষ্ঠানগুলোতে এর ব্যবহার অব্যাহত থাকবে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ভাষার মর্যাদা পাবে না।
উল্লেখ্য, ইসরাইলে বসবাসরত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ১৮ লাখ। ৯০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশই তারা। বহু আগ থেকেই তাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখার অভিযোগ রয়েছে ইসরাইল সরকারের প্রতি।
নতুন আইন অনুসারে, এখন থেকে ইসরাইল ইহুদি বসতি স্থাপনকে জাতীয় মূল্যবোধ হিসেবে বিবেচনা করবে এবং ইহুদি বসতি স্থাপন সমর্থন করবে ও এর প্রতি উৎসাহ জানাবে।
একজন ফিলিস্তিনি আইনপ্রণেতা জানান, আমি দুঃখ ও অতিশয় বেদনার সঙ্গে গণতন্ত্রের মৃত্যু ঘোষণা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*