Wednesday , 14 April 2021
আপডেট
Home » জাতীয় » শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে: হাছান মাহমুদ
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে: হাছান মাহমুদ

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে: হাছান মাহমুদ

ডেস্ক রিপোর্ট: ছাত্রলীগ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে রাস্তায় নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীদের নিরাপদ সড়কের দাবিকে ডাকা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিতে এতে বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে।’ রবিবার (৫ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নিয়েছেন। বেশ কয়েকটি বাস্তবায়নও করেছেন। তিনি আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন, সব সরকারি সংস্থাকে নির্দেশ দিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, দলের নেতাদের নির্দেশ দিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবির সঙ্গে আমরা যেন থাকি। তাদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের সহায়তা করেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা তাদের সহায়তা করেছেন।’
সামাজিক মাধ্যমে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে দাবি করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরশুদিন বোরকা পরে যেই মেয়ে এসে লাইভ করেছে, সে বাঁশেরকেল্লার একজন কর্মী। এছাড়া আরও কয়েকজন ফেসবুকে লাইভে এসে গুজব ছড়িয়েছে। এটি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। যারা এ সব প্রোপাগান্ডা ছড়িয়েছে, তাদের শনাক্ত করা হয়েছে। বিএনপি নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী কিভাবে তার দলের তরুণ ব্যারিস্টারকে নির্দেশ দিচ্ছেন, ছাত্রছাত্রীদের ভেতরে ঢুকে পড়ে সরকারের বিরুদ্ধে এটাকে কাজে লাগানোর। আমির খসরুর অডিও ফেসবুক ইউটিউবে এসেছে, আপনারা জানতে পেরেছেন। আরও অনেকের অডিও আছে, যা এখনও আসেনি। এলে আপনারা জানতে পারবেন।’
১/১১’র কুশীলবরা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘আমরা বেশ কয়েকদিন আগে থেকে বলে আসছিলাম, বিএনপি-জামায়াতের অনুপ্রবেশ ঘটেছে। সেজন্য তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী মেনে নেওয়ার পর আমরাও তাদের ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। কিন্তু বিএনপি-জামায়াত এবং ১/১১’র কুশীলবরা ছাত্রছাত্রীদের বিভ্রান্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করে তাদের ঘরে ফিরে যেতে দেয়নি। তারা অনেকে ঘরে ফিরে যেতে চাইলেও তাদের ফিরে যেতে দেয়নি।’
আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে যারা হামলা চালিয়েছে তারা কেউ শিক্ষার্থী নয় মন্তব্য করে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘তারা শিক্ষার্থী হতে পারে না। আমরা খোঁজ নিয়েছি, তারা কেউ শিক্ষার্থী নয়। হাজার হাজার স্কুলড্রেস বিক্রি হয়েছে। যারা বিক্রি করেছে, তারাই বিস্মিত এই ভেবে যে, এত ড্রেস কেন বিক্রি হয়। নীলক্ষেতে হাজার হাজার আইডি কার্ড বানানো হয়েছে। বানিয়ে তাদের মধ্যে ঢুকে গুজব ছড়ানো হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের ঢাল করে আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। গতকালের ঘটনায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ-সংগঠনের ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাদের অনেকেই এখন হাসপাতালে। দুঃখের বিষয় কোনও গণমাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে যে হামলা হয়েছে এবং এত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, তা প্রকাশ করেনি। অনেকে লাইভে এসে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন, তাও অনেক মিডিয়া প্রকাশ করেনি। কয়েকটি কাগজ ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়ও এই বিভ্রান্তিকর তথ্যগুলো প্রকাশ করা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগ অফিস থেকে কোনও হামলা করা হয়নি এমন দাবি করে ড. হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘আমি সারাদিন আওয়ামী লীগ অফিসে ছিলাম। যখন আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা হয়, তখন সেটাকে প্রতিরোধ করা হয়েছে। সেই হামলা ছাত্রছাত্রীরা করেনি, করেছে ছাত্রছাত্রীর ছদ্মবেশে বিএনপি-জামায়াত। ছাত্রছাত্রীদের হাতে কোনও অস্ত্র ছিল না, থাকতে পারে না। অথচ সেখানে গুলি করা হয়েছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, এগুলো কথা কয়েকটি কাগজে ছাপা হয়নি। আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ অঙ্গ। আমি দলের পক্ষ থেকে বলছি, আমরা আপনাদের সহযোগিতা চাই। এই যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, এই বিভ্রান্তিতে যেন গণমাধ্যম না পড়ে। যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় তা যদি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়, তাহলে সেই বিভ্রান্তি বহুমাত্রিকতা পায়। যারা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার বদ্ধ পরিকর। যারা এই বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমি সরকারকে অনুরোধ করবো। আমির খসরু, মওদুদসহ যাদের কথা আপনারা জানেন না, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি। যারা বিভ্রান্তি ছড়ায়, তারা ১/১১’র কুশীলব। বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের সুযোগ আমরা দেবো না। সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় যেই নৈরাজ্য, তা বন্ধ করতে সরকার বদ্ধ পরিকর। সেজন্য আগামীকাল মন্ত্রিসভায় আইন উঠছে। পুলিশও বলেছে শিক্ষার্থীরা যেই কাজটি করেছে, তা তাদের জন্য সহায়ক হয়েছে। যারা আইন মানে না, লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে এটা সরকারের জন্য সহায়ক হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*