Sunday , 11 April 2021
আপডেট
Home » গরম খবর » বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি কিন্তু পিছিয়ে যাইনি: প্রধানমন্ত্রী
বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি কিন্তু পিছিয়ে যাইনি: প্রধানমন্ত্রী

বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছি কিন্তু পিছিয়ে যাইনি: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট : স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমি জানি, আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয়। বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু পিছিয়ে যাইনি। পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয় সেটাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (১৪ আগস্ট) বিকেলে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং-এর মাধ্যমে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প: জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) ৪-লেন মহাসড়কে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় নির্মিত ২৩টি সেতু ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ফেনী জেলায় ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। উদ্বোধনের পর জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের আওতায় ২৩টি ব্রিজ যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশের ফতেহপুর রেলওয়ে ওভারপাসেরও উদ্বোধন করেন তিনি। এর ফলে ঈদযাত্রায় অনেকটা যানজটমুক্ত ভ্রমণের সুবিধা পাবেন উত্তরবঙ্গসহ বৃহত্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ।
২০১৬ সালে জানুয়ারিতে শুরু হয় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের কাজ। ইতোমধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়ে গেছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীনে এ কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সেনাবাহিনী প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ আহমেদ। এ ছাড়াও প্রকল্পের ভিডিও চিত্র তুলে ধরেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার সব সময় একটা জিনিস মনে হয়। এদেশের মাুনষের সুখ সুবিধার জন্য যদি একটু ছোট কাজও করতে পারি তাহলে আমার আব্বার আত্মা তো অন্তত শান্তি পাবে। নিশ্চয়ই তিনি একটু স্বস্তি পাবেন। এটা আমার উপলব্ধি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্বজন হারানোর বেদনা নিয়ে আমাকে চলতে হয়। আমার চলার পথ কখনোই খুব সহজ নয় আমি জানি। বারবার আমাকে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয়েছে। কিন্তু আমি পিছিয়ে যাইনি। আমি কখনো পিছিয়ে যাওয়ার চেষ্টাও করিনি। আমি দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা যা করণীয় সেটাই করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
এ ক্ষেত্রে দেশবাসীসহ সকলের সহযোগিতা পাওয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতার কথা স্মরণ করেন। এ বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা সড়ক এবং সংযোগ সেতুগুলো করতে পারছি। এর ফলে আজকে শুধু বাংলাদেশ না, বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটা দ্বার উন্মোচিত হল।
দেশ স্বাধীনের পর জাতির পিতার আঞ্চলিক ও উপআঞ্চলিক সহযোগিতার কথাটি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এই দক্ষিণ এশিয়ার উপআঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি করেছি। এটা ‘সাসেক’ হিসেবে পরিচিত। এই সাসেকের আওতায় একটা উপআঞ্চলিক যোগাযোগ তৈরি করা যার মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের ব্যবসা বাণিজ্য উন্নতি হবে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। সেই সাথে আমাদের উপআঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে শুধু বাংলাদেশ না বাংলাদেশের সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোরও উন্নতি হবে। এই উন্নয়নের আমাদের দেশের গ্রাম অঞ্চলের প্রত্যন্ত মানুষ পাবে। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমাদের সকল কাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বক্তব্য শেষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকলগুলোর উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। এর ফলে আর্থ সামাজিক উন্নয়নের দ্বারসহ আসন্ন ঈদ যাত্রায় স্বস্তির দ্বার উন্মোচিত হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*