Sunday , 16 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » সম্রাটকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন মা
সম্রাটকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন মা
সংবাদ সম্মেলনে সম্রাটের মা সায়েদা চৌধুরী (মাঝখানে) ও বোন ফারহানা আক্তার চৌধুরী (ডানে)

সম্রাটকে ‘নির্দোষ’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলনে যা বললেন মা

ডেস্ক রিপোর্ট: অবৈধ ক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতার ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে ‘নির্দোষ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার মা। রোববার রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্রাটের মা সায়েদা চৌধুরীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পড়েন সম্রাটের বোন ফারহানা আক্তার চৌধুরী। ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের ‘জীবন রক্ষা, উন্নত চিকিৎসা ও দ্রুত মুক্তির দাবিতে’ এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়। মা সায়েদা চৌধুরীর দাবি, তার ছেলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়েছেন। সম্রাটের মা বলেন, তার ছেলে অসুস্থ। সম্রাটের সুচিকিৎসার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এ ছাড়া ‘কোনো ভুলত্রুটি থাকলে’ তা ক্ষমা করে দিতেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে সম্রাটের মা বলেন, গত ৬ অক্টোবর আমার সন্তানকে গ্রেফতার করা হয়। যে স্থান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় সে স্থান থেকে কোনো প্রকার অস্ত্র কিংবা মাদক পাওয়া যায় নাই। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আমরা মিডিয়ার মাধ্যমে দেখতে পেলাম সম্রাটকে কাকরাইল অফিসে নিয়ে আসা হয় এবং প্রায় ৪ ঘণ্টা ১৭ মিনিট তার অফিস তল্লাশি করা হয়। তল্লাশি চলার সময় কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। সম্রাটকে নিয়ে অফিসের ভেতরে প্রবেশের সময় বিভিন্ন মিডিয়ার সম্প্রচারে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু লোক কাঁধে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করে। অফিস থেকে বের হওয়ার সময় ওই সব ব্যাগ দেখা যায়নি। সায়েদা চৌধুরী আরও বলেন, শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এবং ব্যক্তিগত আক্রোশে সম্রাটকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হচ্ছে।
কোন ব্যক্তির আক্রোশের শিকার সম্রাট-আজ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে সম্রাটের ভাই রাশেদ চৌধুরী বলেন, যখনই সম্রাট নির্বাচন করার প্রস্তুতি নেন তখনই তাঁর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ ওঠে। সায়েদা চৌধুরী বলেন, তার ছেলে ক্যাসিনোর ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। সম্রাট শেখ হাসিনার পরীক্ষিত সৈনিক, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের লোক। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসহ রাজধানীর সব সমাবেশ সফল করতে সম্রাট সবসময় অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন।
গত রোববার ভোররাতে যুবলীগের নেতা সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হককে কুমিল্লার মুরাদনগর থেকে আটক করে র‌্যাব। এরপর সম্রাটের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে সঙ্গে নিয়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত রোববার দুপুরে তার কার্যালয় কাকরাইলের ভূঁইয়া ট্রেড সেন্টারে অভিযান চালান। সেখান থেকে পিস্তল, গুলি, ইয়াবা বড়ি, বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া দুটি ক্যাঙারুর চামড়া, বৈদ্যুতিক শক দেয়ার দুটি যন্ত্র ও লাঠি উদ্ধার করা হয়। বন্য প্রাণীর চামড়া রাখার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে রোববার রাতে সম্রাটকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
সম্রাট ও তার সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে র‌্যাব। এর মধ্যে ঢাকার রমনা থানায় তাদের বিরুদ্ধে দুই আইনে দুটি মামলা হয়েছে। আর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানায় আরমানের বিরুদ্ধে মাদক আইনে একটি মামলা হয়েছে। রমনা থানায় দুটি মামলার মধ্যে একটি অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনে, অন্যটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় শুধু সম্রাটকে আসামি করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় সম্রাটের সঙ্গে আরমানকেও আসামি করা হয়। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ মামলায় সম্রাটকে গ্রেফতার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছে পুলিশ।
সূত্র জানায়, ২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মতিঝিল এবং আশপাশের এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক ছিলেন মিল্কী, যুবলীগ দক্ষিণের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম আরিফ এবং দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম তারেক। আধিপত্য বিস্তার এবং অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ বিরোধের জেরে আরিফ-তারেক গ্রুপ মিল্কীকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পর তারেক র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। সম্রাটের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আরিফ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এ সুযোগে সম্রাট পুরো ফাঁকা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় তার সহযোগী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল ইসলাম আরমান এবং একেএম মমিনুল হক সাঈদকে তিনি যুবলীগের পদ দেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনি পুরো ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন। সম্রাট ব্যাপক ক্ষমতাবান হওয়ার পর যুবলীগ নেতা এবং টেন্ডার কিং জি কে শামীমও তার দলে নাম লেখান। শুরুতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। বিশাল ক্যাডার বাহিনী সাজানোর পর জিসানের সঙ্গেও সম্পর্ক ত্যাগ করেন। মতিঝিলের ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোর ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণও চলে যায় তার হাতে। এভাবেই সম্রাট ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের ডন হয়ে ওঠেন। তার প্রভাব বাড়তে থাকে। অপরাধ জগতের ক্ষমতার সঙ্গে যোগ হয় রাজনৈতিক পদ-পদবির ক্ষমতা। সব ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন ক্লাবে চালু করেন ক্যাসিনো।
র‌্যাব বলছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দলের ছত্রছায়ায় এবং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনা করতেন সম্রাট। তার নিয়ন্ত্রণে ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর বসত। এই ক্যাসিনো থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*