Sunday , 16 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » খোকার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা
খোকার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা
কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে সাদেক হোসেন খোকাকে ( শুক্রবারের ছবি)-সংগৃহীত

খোকার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা

ডেস্ক রিপোর্ট: জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন হোসেন খোকা তার সুস্থ হওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে তাকে বাঁচিয়ে রাখা হচ্ছে। তার অবস্থা গুরুতর অবনিত হওয়ায় চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) আছেন তিনি।
শুক্রবার (১ নভেম্বর) দুপুরে খোকার পরিবারের বরাত দিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, সাদেক হোসেন খোকারশারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক। সুস্থ হওয়ার আশা দেখছেন না চিকিৎসকরা। এমতাবস্থায় সাদেক হোসেন খোকার মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে আনা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন পরিবার। কারণ খোকা ও তার স্ত্রীর পাসপোর্ট নেই।
শায়রুল জানান, বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা মৃত্যু হলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সাথে কোনও আপসে না যেতে পরিবারের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন। ২৮ অক্টোবর (সোমবার) হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আগে খোকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে টেলিফোনে বলেছেন, যেদেশে গণতন্ত্রের নেত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া কারাগারে, সেখানে আমি সুবিচার পাব এমনটি আশা করি না। জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের মাটিতে দাফন হবে কিনা আল্লাহ জানেন।’ হাসপাতালে খোকার পাশে রয়েছেন আছেন তার স্ত্রী ইসমত হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেক ও ছোট ছেলে ইশফাক হোসেন। বাবার সঙ্কটাপন্ন অবস্থার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে তার বড় ছেলে ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) নিউ ইয়র্কে ছুটে গেছেন।
বাবার সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ইশরাক হোসেন জানান, ফুসফুসে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। অক্সিজেন দিয়ে তার বাবাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। কখনও কাউকে চিনতে পারছেন, আবারও কখনও চিনতে পারছেন না। গত কয়েক দিন থেকে চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে। বিএনপির বৈদেশিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন আরও বলেন, বাবা কিডনি ক্যানসারে ভুগছিলেন। হঠাৎ করেই ফুসফুস আক্রান্ত হলে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। এখনও পর্যন্ত অক্সিজেন-সাপোর্ট নিয়ে বেঁচে আছেন। কিন্তু কিছুই বলতে পারছেন না। সারাক্ষণ তার চোখ বেয়ে পানি গড়াতে থাকে। বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবারের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ইশরাক বলেন, আমরা খুবই বিভ্রান্তি ও হতাশার মধ্যে আছি। আব্বু-আম্মুর কারও পাসপোর্ট নেই। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না। ২০১৭ সালে খোকা ও তার স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারা নিউ ইয়র্ক কনস্যুলেটে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে কনস্যুলেট থেকে কোনও সদুত্তর দেয়া হয় নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রে খোকার মৃত্যু হলে তাকে দেশে আনা নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১৮ অক্টোবর (শুক্রবার) সাদেক হোসেন খোকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ অক্টোবর (সোমবার) তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়। ইশরাক হোসেন বলেন, আব্বু আমাদের বলেছেন, দেশে ফেরার ব্যাপারে সরকারের সঙ্গে কোনও সমঝোতা করবেন না। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অথবা দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কোনও পদক্ষেপ নেবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*