Wednesday , 12 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড
(উপরে, বাঁ থেকে) শরিফুল ইসলাম খালিদ, মামুনুর রশিদ রিপন, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী ও রাকিবুল হাসান রিগান (নিচে, বাঁ থেকে) রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, হাদিসুর রহমান সাগর, সোহেল মাহফুজ

হোলি আর্টিজান হামলা মামলায় ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা মামলায় বেঁচে থাকা আট আসামির মধ্যে সাত জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছেন আদালত। মামলার অপর আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে এই মামলায় খালাস পেয়েছেন। আজ বুধবার (২৭ নভেম্বর) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, রাকিবুল হাসান রিগান, রাশেদুল ইসলাম ওরফে র‌্যাশ, সোহেল মাহফুজ, হাদিসুর রহমান সাগর, শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ।
পর্যবেক্ষণে যা বললেন আদালত: হোলি আর্টিজান হামলাকে ‘জঘন্য ঘটনা’ উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, ‘জঙ্গিরা এদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এবং এদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করার নাম করে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।’
পর্যবেক্ষণে আরো বলা হয়, এ ঘটনার মাস্টার মাইন্ড তামিম চৌধুরী ও তার সহযোগীদের পরিকল্পনা মাফিকই এ হামলা করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই আইএসের বরাত দিয়ে তারা দায় স্বীকার করেছিল। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদন্তে এদেশে আইএসের কোন অস্থিত্ব পাওয়া যায়নি। মূলত আিইএসের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই জঙ্গিরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে।
আদালত প্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তা: এর আগে আজ বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে কারাগার থেকে তাদের ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণসহ রাজধানী ঢাকা ও সারাদেশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আদালত চত্বর ও এর আশপাশে এলাকায় র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নজরদারিতে রেখেছেন।
এছাড়া রাজধানী ঢাকায় পুলিশ-র‌্যাবের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। পুরান ঢাকার বেশ কয়েকটি রোডে পথচারী চলাচল সীমিত করা হয়। একই সঙ্গে আদালতে প্রবেশদ্বারে বসানো হয় র‌্যাব ও পুলিশের নিরাপত্তা চৌকি।
আসামিদের কার কী সম্পৃক্ততা: জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধী: জাহাঙ্গীর হোসেন ওরফে রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারী ও হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের সরবরাহকারী হিসেবে তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ২০১৭ সালের ১৩ জানুয়ারি ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাকে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর আদালতে ২০১৭ সালের ২৩ জানুয়ারি গুলশান হামলার আদ্যোপান্ত স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয় রাজীব গান্ধী। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে গাইবান্ধা জেলার বোনারপাড়া বাজারে বাইক হাসানের বাসায় তামিম চৌধুরী, মেজর (অব) জাহিদ, সরোয়ার জাহান, রায়হানুল কবির রায়হান, নুরুল ইসলাম মারজান ও শরীফুল ইসলাম খালেদের সঙ্গে বৈঠকে হোলি আর্টিজানে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করে রাজীব।
আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে র‌্যাশ: গুলশান হামলার পরিকল্পনা সহযোগী ও বাস্তবায়নকারী হিসেবে তদন্তে নাম এসেছে আসলাম হোসেনের। এই গ্রুপের শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ। তাকে ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই গ্রেফতার করা হয়। ওই বছরের ১০ আগস্ট হামলায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। তার বিরুদ্ধে অর্থ লেনদেন, হামলাকারীদের প্রশিক্ষণকারী জঙ্গিদের কাছে নিয়ে যাওয়া, বোম চার্জ শিক্ষা দেওয়া এবং হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্তে। হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া রোহানকে আসাদ গেটের আড়ং থেকে ২০১৫ সালে নিয়ে যায়। পরে প্রশিক্ষক জঙ্গি নেতা রিগ্যানের কাছে পৌঁছে দেয়। সদরঘাটের বুড়িগঙ্গায় হামলাকারীদের নৌকায় করে নিয়ে গ্রেনেড ছোড়া শেখায়। গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে হানিফ পরিবহনে করে ঢাকায় আনে। এছাড়া হামলাকারীদের জন্য ঢাকায় বাসা ভাড়া করাসহ নানা রকম লজিস্টিক সাপোর্ট দেয়। নওগাঁর মান্দা এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ উচ্চ মাধ্যমিক পড়া অবস্থায়ই প্রথমে অনলাইনের মাধ্যমে জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে নব্য জেএমবির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় তার। ঢাকায় আসার পর তামিম চৌধুরী ও মারজানের সঙ্গে থেকে জঙ্গি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে। গুলশান হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তামিম ও মারজানের সহযোগী হিসেবে কাজ করে। ২০১৭ সালের ২৮ জুলাই নাটোর থেকে গ্রেফতার হওয়ার পর আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে রাশেদ।
সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ: তার প্রকৃত নাম আব্দুস সবুর খাঁন ওরফে হাসান। জঙ্গি সংগঠনে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে নসরুল্লাহ নামে জঙ্গিরা তাকে চিনতো। ২০১৭ সালের ৮ জুলাই তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে কয়েক দফা রিমান্ড শেষে ২৩ জুলাই গুলশান হামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় সোহেল। এ হামলায় অর্থ, অস্ত্র, বিস্ফোরক, বোমা তৈরি ও সরবরাহকারী সোহেল মাহফুজ এক সময় পুরনো জেএমবির শীর্ষস্থানীয় নেতা ছিল। পরবর্তীতে মতবিরোধের কারণে নব্য জেএমবির সুরা সদস্য হয়। সুরা সদস্যরাই গুলশান হামলার পরিকল্পনা করে সোহেল মাহফুজকে হামলাকারী, অস্ত্র ও বোমা সরবরাহ করার দায়িত্ব দেয়।
হাদীসুর রহমান সাগর: ২০১৮ সালের ২১ মার্চ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ৫ মে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। গুলশান হামলার মামলা তদন্তে হাদীসুর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে বোমা তৈরি ও অস্ত্র,বোমা সরবরাহের তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা। পুরানো জেএমবির সদস্য সাগর ২০০১ সালে জয়পুরহাট সদরের বানিয়াপাড়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাস করার পর থেকেই জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ভারত থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আনার সবগুলো রুট জানা ছিল তার। ২০১৪ সালে নব্য জেএমবির হয়ে কাজ শুরুর পর হলি আর্টিজানে হামলার জন্য অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহ করেন।
রাকিবুল হাসান রিগ্যান: মামলার তদন্তে রাকিবুল হাসান রিগ্যান ওরফে রাফিউল ইসলাম রাফি ওরফে রিপন ওরফে হাসান ওরফে অন্তরের (২০) নাম এসেছে হামলাকারীদের প্রশিক্ষক হিসেবে। বসুন্ধরার যে বাসা থেকে হামলার পরিকল্পনা হয় সেই বাসায় তার যাতায়াত ছিল। সেখানে হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ দেয়। বয়সে তরুণ রিগ্যান ২০১৫ সালে বগুড়া সরকারি শাহ সুলতান কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ওই বছরের ২৬ জুলাই সকালে কোচিংয়ের কথা বলে ঘর ছাড়ে।
মামুনুর রশিদ রিপন: গুলশান হামলার পরিকল্পনা ও হামলায় অংশ নেওয়া জঙ্গিদের সরবরাহকারী হিসেবে নাম এসেছে নব্য জেএমবির নেতা মামুনুর রশীদ রিপনের। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গাইবান্ধা জেলার শাখাডায় জঙ্গি সরোয়ার, মারজানা, বাশার, রায়হানের সঙ্গে হামলার পরিকল্পায় বৈঠক করে। হামলার জন্য জঙ্গি হাদিসুর রহমান সাগরের সঙ্গে একে ২২ রাইফেল, পর্যাপ্ত গুলি এবং চারটি গ্রেনেড, দুটি ৭.৬২ পিস্তল ও ১২ রাউন্ড গুলি মারজানের মাধ্যমে তামিম চৌধুরীর কাছে পৌঁছে দেয়।
শরীফুল ইসলাম খালিদ: রিপনের মতো খালিদও হলি আর্টিজানে হামলার পরিকল্পনায় সহযোগিতা, হামলা বাস্তবায়ন ও হামলাকারী সরবরাহে ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া হামলাকারীদের জায়গা মতো পৌঁছে দেওয়া এবং তাদের অর্থ সহায়তা করে। খালিদ জঙ্গি রাজীব গান্ধীর মাধ্যমে হামলাকারী পায়েল ও শরীফুল ইসলাম ডনকে বাছাই করে। এছাড়া আগে থেকেই মোবাশ্বর, রোহান ও উজ্জল তার কাছে ছিল। তাদের সবাইকে গাইবান্ধার চরাঞ্চলে প্রশিক্ষণ দেয়। খালিদ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। নব্য জেএমবির শীর্ষ নেতা তামিম চৌধুরীর সঙ্গে প্রথম থেকেই যোগাযোগ ছিল তার। রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার শ্রীপুর এলাকায় তার গ্রামের বাড়ি। বাবার নাম আব্দুল হাকিম।
মামলায় খালাস পেয়েছেন আসামি মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান। এ মামলায় আট আসামির মধ্যে খালাস পেয়েছেন একজন। খালাস পাওয়া ওই আসামি হলেন নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান। আদালত রায়ে বলেছেন, ‘মিজানের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেয়া হয়েছে।’
আইনজীবীরা বলছেন, মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানের বিরুদ্ধে আরো ৩০টিরও বেশি মামলা রয়েছে। তাই সহসাই তিনি মুক্তি পাবেন না। খালাস পাওয়া ওই আসামির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।
অভিযোগ ছিল গুলশান হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ এলাকার সীমান্ত থেকে ঢাকায় আনার দায়িত্ব ছিল মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানের। মামলার তদন্তে উঠে এসেছে- আমের ঝুড়িতে করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে অস্ত্র ও বিস্ফোরক ঢাকায় এনে তামিম ও মারজানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতো মিজান। ২০১৬ সালের ২ নভেম্বর রাজধানীর দারুসসালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জঙ্গি হামলা: ২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জনকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করে জঙ্গিরা। হামলা ঠেকাতে গিয়ে নিহত হন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। পরে কমান্ডো অভিযানে হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত পাঁচ জঙ্গির সবাই মারা পড়েন। তারা হলেন রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাজ ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ওরফে উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম ওরফে পায়েল।
২০১৬ সালের ৪ জুলাই নিহত পাঁচ জঙ্গিসহ অজ্ঞাতদের আসামি করে গুলশান থানায় সন্ত্রাস দমন আইনে এ মামলাটি দায়ের করা হয়। ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আটজনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মেট্রোপলিটন হাকিম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবীর। তিনি এ ঘটনায় জড়িত ২১ জনকে চিহ্নিত করেন, যাদের মধ্যে ১৩ জন মামলা তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন সময় মারা যান। ওই বছরের ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি বিচারের জন্য সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
এ হামলায় বেসরকারি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা ওই ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ না পাওয়ায় তাকে অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করেন। এছাড়া চার্জশিটে অভিযুক্ত অপর ১৩ জন মৃত্যুবরণ করায় তাদেরও অব্যাহতি প্রদানের আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। চার্জশিটটি ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধনী ২০০৩) ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় দাখিল করা হয়েছে। এ ধারায় অপরাধীর সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।
মামলার চূড়ান্ত চার্জশিটভুক্ত আটজন আসামি হলেন হামলার মূল সমন্বয়ক বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরীর সহযোগী আসলাম হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র্যাশ, ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক সরবরাহকারী নব্য জেএমবি নেতা হাদিসুর রহমান সাগর, নব্য জেএমবির অস্ত্র ও বিস্ফোরক শাখার প্রধান মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, জঙ্গি রাকিবুল হাসান রিগ্যান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী, হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী আব্দুস সবুর খান (হাসান) ওরফে সোহেল মাহফুজ, শরিফুল ইসলাম খালিদ ও মামুনুর রশিদ রিপন। আসামিদের মধ্যে শরিফুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ পলাতক এবং অপর ৬ আসামি কারাগারে রয়েছেন।
কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান, হাদিসুর রহমান সাগর, রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ ও রাকিবুল হাসান রিগ্যান হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার অভিযোগপত্রে থাকা ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ১১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*