Wednesday , 12 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » বিদ্যালয় সংস্কারের বরাদ্দ জানে না সভাপতি
বিদ্যালয় সংস্কারের বরাদ্দ জানে না সভাপতি
ধানকুনিয়া আবুল হাসেম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়

বিদ্যালয় সংস্কারের বরাদ্দ জানে না সভাপতি

কামাল হোসেন মণ্ডল, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধিঃ শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। সেই লক্ষ্যে সরকার কোমলমতি শিশুদের সুন্দর পরিবেশে লেখাপড়া করার জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোকে সংস্কার ও স্বজ্জিত করার জন্যে প্রতি অর্থ বছরে বরাদ্দ দিয়ে থাকে। সেই ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্লিপ, বিশেষ ও প্রাক-প্রাথমিকের ২০১৯-২০ অর্থ বছরে নেত্রকোনার মদন উপজেলার ধানকুনিয়া আবুল হাশেম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়েও বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিয়ম রয়েছে স্কুল কমিটির সভাপতি প্রধান শিক্ষক একত্রে কাজ সম্পন্ন করবে কিন্তু এ অর্থবছরে বিদ্যালয় সংস্কারে কত টাকা বরাদ্দ পেয়েছে তা জানেন না বিদ্যালয় কমিটির সভাপতি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ -২০ অর্থ বছরে উপজেলার ৯৪ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নিয়মিত স্লিপে ৭২ টি বিদ্যালয়ে ৪০ হাজার টাকা, ২২ টি বিদ্যালয়ে ৬০ হাজার টাকা ও প্রাক-প্রাথমিক এর জন্য ১০ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে । এছাড়া ৮ টি বিদ্যালয়ে বিশেষ বরাদ্দ রয়েছে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে বিদ্যালয়ের সংস্কারসহ প্রাক-প্রাথমিকের শ্রেণী কক্ষ সজ্জিত করণের কাজে ব্যয় করার নিয়ম রয়েছে। এর মধ্যে ধানকুনিয়া আবুল হাসেম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ বরাদ্দে ১ লক্ষ ৫০ হাজার, স্লিপ ও প্রাক- প্রাথমিক ৫০ হাজার করে মোট ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের বরাদ্দকৃত ২ লক্ষই উত্তোলন করা হয়েছে।
ধানকুনিয়া আবুল হাশেম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সম্প্রতি সরজমিনে গিয়ে জানাযায়, বিশেষ বরাদ্দ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে রং এর কাজ করা হয়েছে। স্লিপ ও প্রাক প্রাথমিকের শ্রেণী কক্ষের সজ্জিত করণের কাজ করা হয় নি।
এ সময় বিদ্যালয়ের সভাপতি আবুল হাশেম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রধান শিক্ষক রায়হান উদ্দিন সাহেব আমাকে বলেছেন এ বছর বিদ্যালয়ের সংস্কার ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্যে ১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পেয়েছি। সেই অনুযায়ী সর্বমোট ১ লক্ষ ২ হাজার টাকার কাজ করেছি। এ বছর বিশেষ, স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিকে মোট ২ লক্ষ টাকা বিদ্যালয়ে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এ কথা বললে তিনি বলেন, আমি তেমন লেখা-পড়া জানিনা। প্রধান শিক্ষক আমার কাছে ভাউচার নিয়ে এসে বলল স্বাক্ষর করতে, আমি স্বাক্ষর করে দিয়েছি। আমার এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে প্রধান শিক্ষক এই প্রতারণা করে থাকলে বিচার দাবি করছি।
প্রধান শিক্ষক রায়হান উদ্দিন জানান, আমি বিদ্যালয়ের বিশেষ বরাদ্দের টাকা দিয়ে কাজ করেছি। বিদ্যালয়ে পানি উঠায় স্লিপ ও প্রাক-প্রাথমিক এর শ্রেনি কক্ষের সজ্জিতের কাজ এখনো করতে পারিনি।
মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, মোঃ আবুল হোসেন বলেন, শুনেছি ধানকুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিশেষ বরাদ্দের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। স্লিপ ও প্রাক- প্রাথমিক এর কাজ করবে বলে আমাকে জানিয়েছে। কাজ না করলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*