Saturday , 15 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » বিচারবহির্ভূত হত্যা জিয়ার আমল থেকে শুরু: প্রধানমন্ত্রী
বিচারবহির্ভূত হত্যা জিয়ার আমল থেকে শুরু: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বিচারবহির্ভূত হত্যা জিয়ার আমল থেকে শুরু: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয়েছে। আমাদের বহু নেতাকর্মী লাশ পাওয়া যায়নি। তারপরে একেবারে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হলো। সেই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে বিচারবহির্ভূত হত্যা নিয়ে জাতীয় পার্টির অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সরকারি বিভিন্ন বাহিনীর বিচার বহির্ভূত হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা তুলে ধরে জিএম কাদের বলেন, ‘অনেক সরকারি বাহিনী দ্বারা নির্দোষ লোককে হত্যা করা হচ্ছে। ব্যক্তি স্বার্থে ভাড়াটিয়া বাহিনী হিসেবে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ আসছে, মামলায় প্রমাণ হচ্ছে।
মাদক বিরোধী অভিযান, চরমপন্থীদের দমন, সন্ত্রাসী দমন, ধর্মীয় উগ্রপন্থী দমনের নামে পরিচালিত কথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে বিচার বহির্ভূত হত্যা সংগঠিত হয়। এখন রাজনৈতিক কর্মী, বিভিন্ন পেশার কর্মজীবীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রোষের শিকার হয়ে বন্ধুকযুদ্ধ, গুমের ভিকটিম হচ্ছে। বেআইনি কাজ বন্ধ করতে প্রয়োজন আইনি ব্যবস্থা। বেআইনি কাজ বেআইনিভাবে প্রতিরোধ ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আমল থেকে শুরু হয়েছে। বিচারবহির্ভূত হত্যা কীভাবে এগুলো নিয়ন্ত্রণ করবো আমরা সেই চেষ্টা করছি। পাশাপাশি আমাদের মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সন্ত্রাস নির্মূল করতে হবে। জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কথা মতো কাজ করে যাচ্ছে। তারা যথেষ্ট সফলতা অর্জন করেছে। তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটা করছে।
সেগুলো করতে গিয়ে যদি কিছু দুর্ঘটনা ঘটে, এটা খুব অস্বাভাবিক নয়, ঘটে। তবে আমরা কাউকে ছেড়ে দিচ্ছি না। আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছি। এটা কেউ বলতে পারবেন না যে অন্যায় করলে কাউকে আমরা ছেড়ে দিছি। সেটা কিন্তু দেয়া হচ্ছে না।
করোনাভাইরাসের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শুরুতেই মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়েছি। করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসক, নার্স, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসনের লোকজন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী প্রত্যেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন।
তিনি বলেন, এই করোনা মোকাবিলায় মিলিতভাবে যে প্রচেষ্টা আমরা চালিয়েছি, এজন্যই আমরা মৃত্যুহার নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছি। আমরা কিন্তু খরচের দিকে তাকাইনি। চিকিৎসাসেবা যাতে দিতে পারি, সেই ব্যবস্থা, যা যা প্রয়োজন আমরা সেটা সংগ্রহ করা এবং দেয়ার চেষ্টা করেছি। যেখানে যেখানে হাসপাতাল করা দরকার, চিকিৎসা, কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা, সবই করেছি। সেজন্য পানির মতো টাকা খরচ হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এ ধরনের কাজ করতে গেলে কেউ খুঁটে খুঁটে দুর্নীতি দেখতে পারেন। সামনে মহাদুর্যোগ, সেটা মোকাবিলা করতে গেলে টাকা পযসা কত যাবে, সেটা বিবেচ্য ছিল না। বিবেচ্য ছিল মানুষকে বাঁচানো।
আমরা সেই ব্যবস্থা নিয়েছি বলেই আজকে আমরা অনেককে রক্ষা করতে পেরেছি। অনেকটা নিযন্ত্রণ করতে পেরেছি। এখনও পৃথিবীর অনেক দেশ, উন্নত দেশগুলো হুমকির মুখে। আমরা যদি তুলনা করি, আমাদের দেশে যে ঘনবসতি, যে সংখ্যা, সেখানে এ কাজগুলো করা অনেক কঠিন ছিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*