Saturday , 8 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » আঘাত আসলে প্রতিঘাতের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে:  প্রধানমন্ত্রী
আঘাত আসলে প্রতিঘাতের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে:  প্রধানমন্ত্রী

আঘাত আসলে প্রতিঘাতের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে:  প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত আসলে তার উপযুক্ত জবাব দিতে দেশের সশস্রবাহিনীর প্রতি সক্ষমতা অর্জনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ কারো সঙ্গে যুদ্ধ চায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই। আমরা যুদ্ধ চাই না, আমরা শান্তি চাই। সার্বভৌমত্বের ওপর কোনো আঘাত এলে তা মোকাবিলার সক্ষমতা আমরা অর্জন করতে চাই। এজন্য আমাদের প্রস্তুতি দরকার, সশস্রবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এটা অনুধাবন করতে হবে।’
রোববার (১৩ ডিসেম্বর) সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে রাজধানীর মিরপুরে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স-২০২০ এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স-২০২০ এর গ্রাজুয়েশন সেরিমনিতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে একটা কথা মনে রাখতে হবে, মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এই বাহিনী গড়ে উঠেছে। কাজেই এই বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদেরকে গড়ে তুলবেন, যেন সব সময় জনগণের পাশে থেকে জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারেন।’
বাংলাদেশে ১০ লাখ মিয়ানমারের নাগরিক আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কখনও তাদের সঙ্গে সংঘাতে জড়াইনি। আলোচনার মাধ্যমে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে চাই। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে এই ইস্যুর দ্রুত কার্যকরী সমাধানের জন্য আবেদন জানিয়েছি কারণ এটি এখন আমাদের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘তাই সশস্রবাহিনীকে দেশের নিরাপত্তা রক্ষার্থে ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে।’ তিনি বলেন, তার সরকার বঙ্গবন্ধু প্রবর্তিত পররাষ্ট্রনীতি, ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে শত্রুতা নয়’- অনুসরণ করে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে বড় কথা, দেশের উন্নতি করতে হবে, তার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে যেখানে যতটুকু সহযোগিতা পাওয়া যায় এবং যাদের কাছ থেকে যতটুকু প্রযুক্তিজ্ঞান পাওয়া যায়, সেইটুকু নিয়েই আমরা আমাদের দেশকে গড়ে তোলার চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে যখন আমরা সরকারে আসি তখন থেকেই শুরু করে এবং ২০০৯ এ সরকার গঠনের পর থেকে এই পর্যন্ত আমরা সশস্ত্রবাহিনীর ব্যাপক উন্নয়ন করতে সক্ষম হয়েছি, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুখ্যাতি পাচ্ছে। তাছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী অবদান রেখে যাচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘করোনায় সারাবিশ্ব স্থবির হয়ে গেছে, তারপরও আমরা ৫.৪ ভাগ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের খাদ্য নিরাপত্তাটা ছিল সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাবিশ্বে একটা দুর্ভিক্ষ হবার সম্ভাবনাও দেখা দিচ্ছে। সেজন্য আমরা আহ্বান করেছি আমাদের এক ইঞ্চি জমি যেন অনাবাদি না থাকে এবং প্রত্যেকের ঘরে যেন খাবারটা ঠিকমতো থাকে। সেইদিকে আমরা বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি।’
প্রধানমন্ত্রী পরে এনডিসি ও এএফডব্লিউসি ২০২০ শেষ করা স্নাতকদের মঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ কমান্ড্যান্ট লে. জেনারেল আতাউল হাকিম সারওয়ার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*