Wednesday , 12 May 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » হাফিজ-শওকতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : ফখরুল
হাফিজ-শওকতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

হাফিজ-শওকতের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট: দলের দুই ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও শওকত মাহমুদকে শোকজের পর তাদের বিষয়ে আর কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ভাইস চেয়ারম্যান সবাই দলে আছেন। কোথাও যাওয়ার কোনো সমস্যা তো হয়নি। সেই ধরনের পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি।’
‘বিএনপি এখনো অত্যন্ত সুসংগঠিত। একটা কথা আপনাদের মনে রাখতে হবে বিএনপি একটা বৃহৎ দল। এ ধরনের উদারপন্থী, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলে ছোটখাটো দু-একটা ঘটনা কোনো ঘটনাই নয়। এটাকে এত বড় করে যারা দেখছেন তারা আমার মনে হয় ঠিকভাবে দেখছেন না।’
সোমবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব এ মন্তব্য করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।
মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদের লিখিত জবাবে বিভিন্ন অভিযোগ ও সুপারিশের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা এখনো আলোচনা করিনি এবং কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তার আগে আপনারা এমন লাফালাফি করছে মনে হয় যেন সবকিছু চলে যাচ্ছে, এটাতেই গণতন্ত্র ধ্বংস হচ্ছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনার (মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ) বিষয়ে আমরা কি পাল্টা কিছু বলেছি। উনার বক্তব্যে উনি যা বলেছেন, তা আমি দেখেছি। দলের যে বিধান আছে, স্থায়ী কমিটির… ।’
‘এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একটা রাজনৈতিক দলের উচ্চপর্য়ায়ের নেতা নিঃসন্দেহে এ বিষয়টি প্রেসের কাছে আসবেই, আপনারা কনসার্ন হবেন। ভারতে ২২ জন্য কংগ্রেস শীর্ষনেতা ওপেন চিঠি দিয়েছেন সোনিয়া গান্ধীকে। কই তারা তো কেউ বহিষ্কার হননি। দ্যাট ইজ দ্য প্র্যাকটিস অব ডেমোক্রেটিক পার্টি। কখনো হবে, কখনো হবে না- এটা নিয়ে এত মাথাব্যথার কোনো কারণ নেই।’
মির্জা ফখরুল দাবি করে বলেন, ‘বিএনপির মধ্যে গণতন্ত্র আছে বলেই তো বিএনপি এখন পর্যন্ত এত অটুট আছে, একেবারে সুদৃঢ়ভাবে ঐক্যকদ্ধ আছে।’
এদিকে সরকারকে উদ্দেশ্য করে ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার চরমভাবে গণতন্ত্র হত্যা করছে, গণতন্ত্রের পরিবেশ একেবারে বিনষ্ট করে ফেলেছে এবং একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সকল আয়োজন করে ফেলেছে। শুধু ছদ্মবেশটা আছে। সেই ছদ্মবেশ নিয়ে তারা কথা বলছে, সমানে কথা বলছেন যে, বিএনপির মধ্যে গণতন্ত্র নেই।’
‘গণতন্ত্র তো ধবংস করেই ফেলে আওয়ামী লীগ সরকার। সেই বিষয়ে কিন্তু একটা কথাও গণমাধ্যমের কোথাও বলা হয় না, কোথাও দেখি না। তারা (আওয়ামী লীগ) যখন প্রেস কনফারেন্স করেন তাদের কি একবারও জিজ্ঞাসা করেন- আপনি কেন এটা করলেন, এটা কেন করলেন। দ্যাট ইজ দ্য পয়েন্ট। দেশে এমন একটা ত্রাসের বা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করেছে- আপনারা যারা স্বাধীন সাংবাদিকতা করতে চান তারা করতে পারছেন না।’
তিনি বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) মেজর হাফিজের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করেছে, নাশকতার মামলা করেছে, বাস-ট্রাক পুড়িয়ে দেয়ার মামলা করেছে। একটা নয় ১০টা মামলা। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের মুখে মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে কথা বলা শোভা পায় না।’
‘কোনো মুক্তিযোদ্ধাকে তারা সম্মান দিয়েছে? তারা কি জিয়াউর রহমানকে সম্মান দিয়েছে? তারা কি তাজউদ্দীন আহমদ (বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী) সাহেবকে সম্মান দিয়েছে? তারা দেয়নি। তারা কি এমএজি ওসমানীর (মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক) একবারও স্মরণ করে। একে খন্দকার সাহেবকে বের করে দিয়েছে, এখন উনি মুখবধির হয়ে গেছেন, একেবারে কথাবলা বন্ধ, চলাফেরা বন্ধ হয়ে গেছে উনার। এটা আমি কয়েকটা বললাম। আমরাও তো মুক্তিযুদ্ধের সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত। আমাদের বিরুদ্ধে ৮৬টা মামলা।’
ফখরুল বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া সর্বশ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের একজন। কারণ উনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ থেকে যেদিন জিয়াউর রহমান সাহেব স্বাধীনতার ঘোষণা দেন তারপর থেকে মুক্তিযুদ্ধ করছেন, দুইটা শিশুকে নিয়ে লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। তারপর কারাভোগ করেছেন এখনো।’
৪২ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সাদুবাদ বিএনপির: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিককে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই যে, এতদিন পর তারা জনগণের যে মূলকথা সেটা নিয়ে এসেছেন, কথা বলেছেন। তাদের যে দায়িত্ব আছে সেই দায়িত্ব তারা পালন করেছেন।’
‘আমি মনে করি, এটাকে সমস্ত বুদ্ধিজীবী যারা আছেন তাদের সমর্থন করা উচিত। ইটস নট ফর বিএনপি, নট ফর পলিটিক্যাল পার্টি। এটা দেশের জন্য, জাতির জন্য প্রয়োজন। যে একটা নির্বাচন কমিশন তারা চুরি করে, তারা টাকা চুরি করে। তারা করছে এসব উঠে এসেছে। এ কথাগুলো আমরা নির্বাচন কমিশনের গঠনের সময় থেকে বলে আসছি।’
৪২ বিবৃতিদাতার অভিযোগ নিয়ে নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্যের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এটা তো বলি, চোর কি কখনো স্বীকার করে যে, আমি চুরি করেছি।’
৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিকের দেয়া বিবৃতি নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘৪২ জন নাগরিক যে বিবৃতি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়েছেন, আমাদের বিজ্ঞ তথ্যমন্ত্রী মহোদয় বলেছেন যে, এটা বিএনপির অফিসে ড্রাফট হয়েছে। যা একজন মানুষও বিশ্বাস করে না।’
‘যারা বিবৃতি দিয়েছেন তারা একজনও বিএনপি করেন না বরং তারা বিভিন্ন সময় বিএনপির সমালোচনা করেছেন। প্রকৃত সত্য যখনই সামনে আসে এবং জনগণ যখন সত্য কথা বলতে চায়, নাগরিকরা সত্য কথা বলতে চায় তখনই আপনার তাদের বিএনপি বানিয়ে ফেলেন। এটা হচ্ছে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার আরেক জঘন্যতম কৌশল।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*