Thursday , 24 June 2021
আপডেট
Home » অনলাইন » সরিষাবাড়ীর সাবেক বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ

সরিষাবাড়ীর সাবেক বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ

এস এম খুররম আজাদঃ জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সদ্য বদলি হওয়া বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বহু পন্থার অনিয়মের অভিযোগ সমেত বন বিভাগ কর্তৃক ওয়াকসনের নির্ধারিত সামাজিক বনায়নের আওতার বাহিরে থাকা ব্যক্তি মালিকানার দেশীয়, বনজ, ফলজ ও ওষুধী বৃক্ষ কর্তনের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, ২০০৩ সালে ৫০ জন উপকার ভোগী অর্থনৈতিক সংগতির আশাবাদে সরিষাবাড়ীর উষা নামক এনজিও’র সমন্বয়ে বন বিভাগ কর্তৃক সামাজিক বনায়ন প্রকল্পের আওতায় বৃক্ষ রোপণে উদ্বেলিত হয়। অতঃপর বন বিভাগের সাথে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি হয়। তারই ফলশ্রুতিতে পুরাতন ঘাট হতে পিংনা পর্যন্ত ১০ কিঃ মিঃ রাস্তার দুই ধারে ১০ বছরের চুক্তিতে বৃক্ষ রোপণ সম্পন্ন করেন তারা। জানা যায়, সম্প্রতি তারাকান্দি হতে ভুয়াপুর পর্যন্ত সড়ক ও জনপদের প্রক্রিয়াধীনে রাস্তার উন্নতিকরণ সমেত প্রশস্থ করার কাজ শুরু করা হয়। রাস্তা প্রশস্থকরণে গাছপালা নিরসনে ময়মনসিংহ বন বিভাগ কর্তৃক টেন্ডার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেন। জানা যায়, টেন্ডারকৃত যে সকল গাছ বন বিভাগ কর্তৃক নাম্বার বসানো হয়েছিলো সেই সকল গাছের বাইরে ব্যক্তি মালিকানার আওতায় থাকা প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার গাছ কর্তন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া উত্তরাধিকারীদের জমিতে বেড়ে উঠা বৃক্ষ কর্তন করার বিষয়ে গাছ মালিক পক্ষ বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তাদেরকে (গাছ মালিক) বলেন, সরকারী কাজে বাধা দিলে মামলা করবে বলে হুমকি দেন। জানা যায়, পুরাতন ঘাট হতে পিংনা পর্যন্ত গাছের ৫২টি প্লটের মধ্যে ৪৪টি প্লটের গাছ কাটার অনুমতি পায় ঠিকাদার। সদ্য নিযুক্ত বন কর্মকর্তা সরোয়ার জাহান সদ্য বদলি হওয়া বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের কাছ থেকে অফিশিয়াল ডকুমেন্টারি বুঝিয়ে নেয়ার সন্ধিক্ষণে সামাজিক বনায়ন পুরাতন ঘাট হতে পিংনা পর্যন্ত ৪৪টি প্লটের বাইরে থাকা ৮টি প্লটে ১৭৭টি বৃক্ষের মধ্যে ৭৯টি বৃক্ষ বুঝিয়ে দেন সদ্য নিযুক্ত উপজেলা বন কর্মকর্তা সরোয়ার জাহানকে এবং বাকি বৃক্ষগুলো ভর্তুকি দিবেন বলে লিখিত স্বীকারোক্তি প্রদান করেন। সরিষাবাড়ী উপজেলা বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম উপকার ভোগীদের অংশের টাকা উত্তোলনে বিভিন্ন জটিলতা আছে বলে উপকার ভোগীদের অংশের টাকা পাবেনা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে সহযোগিতা করার আশ্বাসে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করলে উপকার ভোগীরা নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করেন। এ বিষয়ে সরোয়ার জাহান উপজেলা বন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নতুন যোগদান করেছি এখনো সব কিছু বুঝে পায়নি তাই এখনই কোন মন্তব্য করা সমীচীন নয়। উপজেলা বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে তার কাছে (উপজেলা সাবেক বন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম) জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভুয়া, ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*